আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, এই ব্লগের মাধ্যমে যারা 2019 এ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলেছ তাদের আমি ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়ের SAQ প্রশ্নের সাজেশন দেব। তোমরা এই প্রশ্নগুলি প্রথমে নিজে থেকে করার চেষ্টা করো। এই প্রশ্নের উত্তর সবার শেষে দেওয়া হয়েছে। যে প্রশ্নগুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে দেখো তোমরা নিজেরা কত নম্বর পাও। চলো আর দেরি না করে দেখে নেওয়া যাক যে তৃতীয় অধ্যায় থেকে কোন কোন প্রশ্ন করে তোমাদের এ বছরের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন
দস্তক কি?
রুদ্ধ দ্বার নীতি কি?
নানকিং এর সন্ধি কবে কাদের মধ্যে হয়েছিল? এই সন্ধির দুটি শর্ত লেখ।
কাও তাও প্রথা কি?
নজরানা প্রথা কি?
দাদন কি?
গ্যারান্টি প্রথা কি?
পলাশী লুণ্ঠন বলতে কী বোঝো?
সম্পদের বহির্গমন কাকে বলে?
1813 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইন এর গুরুত্ব কি?
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো?
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি কি?
কবে কোন আইনের দ্বারা কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপিত হয়?
কর্নওয়ালিস কোড কি?
সর্বশেষ চার্টার আইন কবে প্রবর্তিত হয়?
বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?ভাইসরয় শব্দের অর্থ কি?
কে, কবে পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন?
কোন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় জমিদারদের জমির ওপর মালিকানা স্বত্ব দিয়েছিল?
ভারতে প্রথম রেলপথ কবে, কোথায়, কে চালু করেন?
উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
তোমাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক।
উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অধ্যায়ের 8 নম্বর প্রশ্নের উত্তর Click here
উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় অধ্যায়ের 8 নম্বর প্রশ্নের উত্তর Click here
উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় অধ্যায় 8 নম্বর প্রশ্নের উত্তর Click here
উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ অধ্যায় 8 নম্বর প্রশ্নের উত্তর Click here
এই ভিডিওটি তোমরা কিন্তু অবশ্যই দেখবে
আজকের প্রশ্নের উত্তর।
দস্তক শব্দের অর্থ বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার ছাড়পত্র যা প্রদান করেছিলেন 1717 খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ফারুকশিয়ার, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে।
চীনে ব্যবসা বাণিজ্য করতে গেলে চীনাদের বেশ কিছু বাণিজ্যিক ও ফৌজদারি আইন বিদেশিদের মেনে চলতে হতো যেমন বিদেশিদের চীনা ভাষা ও আদব কায়দা শিক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না। চীনে বিদেশিদের প্রতি এইসব কঠোর নীতি রুদ্ধ দ্বার নীতি নামে পরিচিত।
1842 খ্রিস্টাব্দে নানকিং এর সন্ধি স্বাক্ষরিত হয় ইংরেজদের সঙ্গে চীনের। এই সন্ধির দুটি শর্ত হলো:- i. চীনের পাঁচটি বন্দর ইউরোপীয়দের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসবাসের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ii. ওই পাঁচটি বন্দরে ইউরোপীয়রা নিজেদের কনসাল নিয়োগের অধিকার লাভ করে।
চিনা সম্রাটের প্রতি বিদেশী রাষ্ট্রের বশ্যতা প্রকাশ্যস্বরূপ নজরানা প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলির দূতেরা চিনা প্রথা অনুযায়ী তিনবার নতজানু হয়ে ও নয়বার মাথা ঠুকে সম্রাটকে অভিবাদন জানাতেন,এই প্রথা কাও তাও প্রথা নামে পরিচিত।
স্বর্গীয় সাম্রাজ্যের অধীশ্বর রূপে চীনা সম্রাটের প্রতি বশ্যতা স্বীকারের নিদর্শনস্বরূপ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে চীনা সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে প্রচুর অর্থ বা উপঢৌকন দিয়ে বশ্যতা জানাতে হতো, যা নজরানা প্রথা নামে পরিচিত।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বাংলার তাঁতিদের বস্ত্র উৎপাদনের জন্য কুঠি গুলি থেকে যে অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হতো তাকে দাদন বলা হয়।
1849-1869 সময়ে ভারতে রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিনামূল্যে জমি দেওয়া সহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা অঙ্গীকার করে যা গ্যারান্টি প্রথা নামে পরিচিত।
1757 খৃস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা বিভিন্ন উপায়ে ভারতবর্ষের ধন-সম্পদ নিজেদের দেশে অর্থাৎ ইংল্যান্ডে নিয়ে যেতে শুরু করেন, একে ঐতিহাসিক পলাশীর লুন্ঠন বলেছেন।
1757 খৃস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব গড়ার রাজনীতি করে, দেওয়ানি লাভের সূত্রে বৈধ ও অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে ইংরেজ কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতবর্ষের সম্পদ ইংল্যান্ডে চালান করে দেয় যাকে দাদাভাই নওরোজি তার 'প্রভার্টি এন্ড ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া' গ্রন্থে সম্পদের বহির্গমন বলে মন্তব্য করেছেন।
1813 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইনের গুরুত্ব হলো i. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে আরও কুড়ি বছরের জন্য প্রশাসনের অনুমতি দেওয়া হয়। ii. ভারতের শিক্ষা খাতে এই প্রথম এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
1765 খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ এর ফলে কোম্পানি বাংলার দেওয়ানী অর্থাৎ রাজস্ব আদায় এবং নবাবের হাতে থাকে নিজামত অর্থাৎ ফৌজদারি বিচার ও প্রশাসনের দায়-দায়িত্ব। ফলে কোম্পানির ছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং নবাবের ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব বাংলায় প্রচলিত এই ব্যবস্থায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা নামে পরিচিত।
ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি ব্রিটিশ আধিপত্যের সম্প্রসারনের জন্য একটি নীতি চালু করেন, সেই নীতিতে বলা হয় যে যদি কোন দেশীয় রাজ্য ব্রিটিশ অধীনতা স্বীকার করে তাহলে সেই রাজ্য ইংরেজদের মিত্র রাজ্যে পরিণত হবে এবং সেই রাজ্যের সমস্ত দায়-দায়িত্ব ইংরেজরা বহন করবে, এই নীতি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি নামে পরিচিত। সর্ব প্রথম দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে 1798 খ্রিস্টাব্দে হায়দ্রাবাদ এই নীতি গ্রহণ করে।
1773 খ্রিস্টাব্দের রেগুলেটিং আইন অনুযায়ী 1774 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
1793 খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারগুলি একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন যা কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত।
সর্বশেষ চার্টার আইন প্রবর্তিত হয় 1892 খ্রিস্টাব্দে।
বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং। ভাষার শব্দের অর্থ হলো রাজপ্রতিনিধি।
লর্ড ডালহৌসি 1849 খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
1793 খ্রিস্টাব্দে লড কনওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী ব্যবস্থায় জমিদার'দের জমির ওপর মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয় 1853 খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসির আমলে বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত।
প্রথম এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ের শর্ট প্রশ্ন লিংক দেওয়া হলো. CLICK HERE
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন