উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস
দ্বাদশ শ্রেণী
৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং উপনিবেশ সমূহ।
প্রশ্ন,
ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কারণ ও গুরুত্ব লেখ। ভারতছাড়ো আন্দোলনের প্রভাব বা ফলাফল কি ছিল?
অথবা
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গান্ধীজীর ভূমিকা? এই আন্দোলনের প্রভাব বা ফলাফল?
অথবা
আগস্ট আন্দোলন আন্দোলনের পটভূমি ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো। এর প্রভাব বা ফলাফল ?
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গান্ধীজীর ভূমিকা-
দীর্ঘ 190 বছরের ব্রিটিশ অপশাসনের বিরুদ্ধে যে সমস্ত রাজনৈতিক আন্দোলন গুলি হয়েছিল তার মধ্যে সর্বশেষ এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন হল- আগস্ট আন্দোলন। এদেশের জাতির জনক 'মহাত্মা গান্ধীর' নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি ছিল পূর্বের আন্দোলন গুলির তুলনায় একটু ভিন্ন প্রকৃতির যেখানে- "করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে" স্লোগান তুলে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে খোলাখুলি লড়াই এর ডাক দেন।
• ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা আগস্ট আন্দোলনের পটভূমি বা কারণঃ-
1938 খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন শেষ হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন কারণে 'গান্ধীজী'- "আগস্ট আন্দোলনের" বা "ভারত ছাড়ো আন্দোলনের" পটভূমি তৈরি করেন।
১) সরকারি নীতি- হাজার 1939 খ্রিস্টাব্দে 3ই সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কোন আলোচনা না করেই সরকার ভারতকে যুদ্ধরত দেশ বলে ঘোষণা করে। ফলে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ব্রিটিশবিরোধী হয়ে ওঠে।
2) ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা- 1942 খ্রিস্টাব্দে ক্রিপস মিশন ভারতে আসে, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের যুদ্ধে যোগদান করানো। শাসনতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া নয়। এর ফলে মিশনের প্রস্তাবগুলি ব্যর্থ হলে, ভারতীয়দের মনে ক্ষোভ জন্মায়।
৩) জাপানি আক্রমণের সম্ভাবনা- 1941 খ্রিস্টাব্দে জাপান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে ভারতের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ভারতীয়দের মনে এই আশঙ্কা জন্মেছিল ভারত ব্রিটিশ শাসিত হওয়ায় এখানে জাপান আক্রমণ করবে । তাই গান্ধীজী তার হরিজন পত্রিকায় জানান-
"জাপানি আক্রমণ থেকে ভারতকে রক্ষা করার জন্য, ব্রিটেনের উচিত অবিলম্বে ভারত ত্যাগ করা।।"
৪) সরকারি দমননীতি- 1938 খ্রিস্টাব্দের পর ভারতীয়রা তাদের দাবি ও সরকারি শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তীব্র দমননীতির মুখে পড়ে। যার কারণে গান্ধীজী ক্ষুব্দ হয়েছিল।
• ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব গ্রহণ ও সূচনাঃ- উক্ত ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধীজি - "কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির" কাছে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব রাখে (1942 খ্রিস্টাব্দের 14ই জুলাই) এরপর প্রস্তাবটি পাশ হয় 1942 খ্রিস্টাব্দে 8ই আগস্ট আন্দোলনের সূচনা হয়।
• ভারতছাড়ো আন্দোলনের গুরুত্ব, ফলাফল বা প্রভাবঃ- 1942 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই আন্দোলন বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে।
ক) সুমিত সরকার এর মত- ঐতিহাসিক সুমিত সরকার এই আন্দোলনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন- আন্দোলনে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অংশগ্রহণ করায় আন্দোলনটি দুর্দমনীয় হয়ে ওঠে। মানুষ যে স্বাধীনতার জন্য সবকিছু হারাতে রাজি তা ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল।
খ) স্বাধীনতার সোপান- ডক্টর অরুণ ভূঁইয়া এই আন্দোলনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন - "ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকে যে জাতিয় জাগরণ ও ঐক্য গঠিত হয়, তা স্বাধীনতার সোপান রচনা করেছিল।।"
গ) কংগ্রেসের মর্যাদা বৃদ্ধি- এই আন্দোলন কংগ্রেসকে জাতীয় মর্যাদায় পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত করে। স্বাধীনতার জন্য মানুষ কংগ্রেসকে একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে মেনে নেয়। ঐতিহাসিক জয়প্রকাশ নারায়ণ এই যুক্তিকে সমর্থন করেন।
ঘ) সাম্প্রদায়িক ঐক্য- জাতীয় মুক্তির আশায় এই আন্দোলনে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দিয়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য গঠন করেছিল মুসলিম লীগের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মুসলিম জনগণের আন্দোলনে যোগ দেয়।
এছাড়া এই আন্দোলনের প্রভাবে গান্ধীজীর মর্যাদা বৃদ্ধি, সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি ঘটনাও ঘটে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন