Click Below

Breaking

Know more

Search

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

ভারতের সমাজ সংস্কারক হিসেবে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান আলোচনা করো।











দ্বাদশ শ্রেণি 


উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায়


উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস 8 নম্বর এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন




প্রশ্ন,

ভারতের সমাজ সংস্কারক হিসেবে রাজা রামমোহন রায়ের অবদান আলোচনা করো।


উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ভারতে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ এর বিকাশ ঘটে। এই সময় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয় মুনীষীগণ কুসংস্কারের অভিশাপ থেকে সমাজের মুক্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগী হয়েছিলেন। এই মনীষীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন 'রাজা রামমোহন রায়'। যাকে- ভারতীয় সমাজ সংস্কারের 'অগ্রদূত' বা 'পথিকৃৎ' বলে সম্মানিত করা হয়।


সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় 

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, আধুনিক মনোভাবসম্পন্ন 'রাজা রামমোহন রায়' উপলব্ধি করেছিলেন- প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন প্রথা পরিবর্তনে তিনি উদ্যোগী হন। যথা-

১) সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা।

২) জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা।

৩) নারী কল্যাণ।

৪) বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা।

৫) অন্যান্য সামাজিক সংস্কার।



১) সতীদাহ প্রথার বিরোধিতাঃ-

মানবদরদি রামমোহন তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত সতীদাহ প্রথা মেনে নিতে পারেনি। যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে শেষ পর্যন্ত এই সতীদাহ প্রথা কে আইনবিরুদ্ধ করতে সক্ষম হন।


সংবাদপত্রে প্রতিবাদ-

অমানবিক এই প্রথার বিরোধিতা করে রামমোহন সংবাদপত্রের মাধ্যমে তার মতামত প্রকাশ করেন। 'সংবাদ কৌমুদী' পত্রিকা এ সম্পর্কে তার মতামত রাখেন।


গ্রহন্ত রচনা- সতীদাহ প্রথার বিরোধিতা করে রামমোহন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। যেমন- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক নিবর্তক সংবাদ (১৮১৯- খ্রি:) গ্রন্থটি উল্লেখ্য।


জনসমর্থন- হিন্দু শাস্ত্র ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিনি প্রমাণ করেন সতীদাহ ধর্মবিরুদ্ধ ও অশাস্ত্রীয়। এর সম্পর্কে তিনি জনসমর্থন আদায় করে ৩০০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের এক স্বাক্ষর পত্র লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক এর কাছে জমা দেন।


প্রথার নিষিদ্ধকরণ- রামমোহনের অবদানে সাড়া দিয়ে বেন্টিং ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এক আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য বলে এই প্রথা নিষিদ্ধ করেন।



২) জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতাঃ-

রামমোহন হিন্দু সমাজে জাতি ভেদ ও অস্পৃশ্যতা প্রথার প্রবল বিরোধিতা। এই প্রথার বিরুদ্ধে 'বজ্রসূচী' গ্রন্থে বাংলায় অনুবাদ করে প্রমাণ করেন জাতিভেদ শাস্ত্র সম্মত নয়।


৩) নারী কল্যাণঃ- 

মধ্যযুগীয় সমাজ ব্যবস্থায় নারীসমাজ ছিল অবহেলিত। দরদী রামমোহন তাই নারী কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। যথাঃ-

ক) তিনি প্রমাণ করেন পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর অধিকার আছে।

খ) স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে তিনি তার মতামত প্রকাশ করেন এবং উদ্যোগ নেন।

গ) বিধবাদের বিবাহ সম্পর্কীয় দিকটি রামমোহন প্রচলন করেছিলেন।

ঘ) বয়সে ছোট কন্যাদের বিবাহের বিরোধিতা করেন রামমোহন।


৪) বাল্যবিবাহ বহুবিবাহের বিরোধিতাঃ- 

বাল্যবিবাহ ও পুরুষের বহুবিবাহ ছিল নারীর কাছে এক অভিশাপ স্বরূপ। সমাজ সংস্কারক রামমোহন এই সমস্যার বিরোধিতা করে জনমত গঠনের চেষ্টা করেন।


৫) অন্যান্য সামাজিক সংস্কারঃ- 

সমাজে প্রচলিত আরো একাধিক প্রথার বিরুদ্ধে রামমোহন প্রতিবাদী হয়েছিল। যেমন- 

ক) কন্যা পন।

খ) গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন।

গ) কৌলিন্য প্রথা প্রভৃতির বিরোধিতা।

ঘ) এছাড়া অসবর্ণ বিবাহ সমর্থন করেন।


শিক্ষা বিস্তারঃ- রামমোহন রায় উপলব্ধি করেছিলেন প্রথাগত শিক্ষা নয় পাশ্চাত্য শিক্ষার দাঁড়ায় এদেশের মানুষের মনে কুসংস্কারের মুক্তি ঘটবে। তাই তিনি বিজ্ঞান ভিত্তিক পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাই হিন্দু কলেজ, জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন (১৮৩০ খ্রি:) প্রভৃতি পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।


উপসংহার- রাজা রামমোহন রায় তার সমাজ সংস্কারের মধ্য দিয়ে- গতিহীন এদেশীয় সমাজ জীবনে বিপ্লব এনেছিলেন। আর এই কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  তাকে 'ভারত পথিক' বলেছিলেন। যার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের "নবজাগরণের অগ্রদূত"।








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here