Click Below

Breaking

Know more

Search

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

Madhyamik History ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা

2019 মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাসে আসতে পারে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন:-  বিংশ শতকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ কর।

উত্তর
সূচনা:- বিংশ শতকের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে বিভিন্ন নারীও যুক্ত হয়ে পড়ে। তাদের অদম্য, তেজ, সাহসিকতা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। নিম্নে এই সমস্ত বীরাঙ্গনাদের আলোচনা করা হল:-

1. দিপালী সংঘ:-
 বিশ শতকের ভারতের জাতীয় আন্দোলনে নারীজাতির জাগরণ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিপ্লবী নারীসংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 1923 খ্রিস্টাব্দের বিপ্লবী লীলা রায় প্রতিষ্ঠিত দিপালী সংঘ, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়।
 এই সংঘের কার্যকলাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক গুলি হল:-
1. নারী জাতির নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীদের আধুনিক করে তোলার জন্য নারী বিদ্যালয় স্থাপন।
2. বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য নারীদের প্রশিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে লাঠিখেলা শরীরচর্চা ও অস্ত্র চালানোর
শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা।
3. নারীদের মধ্যে বৈপ্লবিক আদর্শ সঞ্চার করার জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
 দিপালী সংঘ বাংলার নারীসমাজের ইতিহাসে একদিকে যেমন নারী শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে নারী জাতির আধুনিকীকরণ করেছিল অন্যদিকে এই সংঘ হয়ে ওঠে বাংলার নারী বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান প্রতিষ্ঠান।

2. প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার:-
প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার ছিলেন একজন বাংলার অন্যতম নারী বিপ্লবী এবং প্রথম নারী শহীদ। তিনি দিপালী সংঘের একজন সদস্যা ছিলেন। 1930 সালে সূর্য সেন এর প্রভাবে এসে তিনি সূর্যসেনের সহকারি হিসেবে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নেতৃত্ব দেন। এরই পাশাপাশি 1932 সালে একদল বিপ্লবী নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে প্রীতিলতা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

 ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার এর মতে দেশের যুবক যুবতীদের বিপ্লবী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ দান করাই ছিল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগের মহান উদ্দেশ্য। বাস্তবে দেখা যায় যে তার আত্মত্যাগ আরো হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে বিপ্লববাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে তোলে।

3. কল্পনা দত্ত:-
সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সদস্যা বিপ্লবী কল্পনা দত্ত অন্যান্য বিপ্লবীদের পালানোর সুযোগ করে দিয়ে কলকাতা থেকে বিস্ফোরক নিয়ে আসেন। পরে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর সঙ্গে ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব নেন। তবে আক্রমণের আগেই তিনি ধরা পড়ে যান এবং বন্দী হন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সমুদ্রতীরবর্তী  বৈরালা গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বিপ্লবীদের গুলির লড়াইয়ে সূর্যসেন ধরা পড়লেও তিনি পালিয়ে যান। কিন্তু তিন মাস পর তিনি আবার ধরা পড়েন এবং বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় 1939 সালে তিনি আবার জেল থেকে বের হন এবং কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যান। পাশাপাশি কমিউনিস্ট নেতা পি সি যোশী সঙ্গে এই সময় তার বিবাহ হয়। 1995 সালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর লেখা "চট্টগ্রাম অভ্যুত্থান" গ্রন্থটি এক ঐতিহাসিক দলিল।

4. বীণা দাস:-
সুভাষ চন্দ্রের শিক্ষক বেণীমাধব দাসের কন্যা ছিলেন বীণা দাস।  মায়ের নাম সরলা দেবী। তিনি কল্যাণী দাসের বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও সক্রিয় ভাবে বিপ্লবী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রথম জীবনে তিনি সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তার সবচেয়ে বড় বিপ্লবী কাজ হল গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসন কে হত্যার চেষ্টা করা। জ্যাকসনকে হত্যার জন্য লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং তিনি গ্রেপ্তার হন। 1939 সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবার জাতীয় কংগ্রেসের যুক্ত হন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন ভৌমিককে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। 1945 এ মুক্তি লাভ করে নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে পুনরায় আত্মনিয়োগ করেন। বীনা দাশের বৈপ্লবিক কার্যাবলী ভারতের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

5.লক্ষ্মী সায়গল:-
 নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের পাঁচটি বিগ্রেডের অন্যতম ঝাঁসির রানী বিগ্রেড। এটি ছিল এশিয়ার প্রথম নারী বাহিনী। সিঙ্গাপুরে কর্মরত চিকিৎসক লক্ষী স্বামিনাথন তথা লক্ষ্মী সায়গল নেতাজীর ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের উজ্জ্বল কর্ম জীবন ত্যাগ করে ঝাঁসি বাহিনী নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি পরিচিত হন ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী নামে। প্রায় 1500 মহিলা এই বাহিনীতে যোগ দেন  1943 সালের অক্টোবর মাসে এই বাহিনীর সামরিক ট্রেনিং শুরু হয়। জাপানি সেনাবাহিনী ব্রিটিশ ভারতে আক্রমণ শুরু করলে নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজও 1944 সালে ব্রহ্মদেশের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু মিত্র শক্তির চাপের কাছে জাপান কোণঠাসা হয়ে পড়লে আজাদ হিন্দ সেনারা জাপানের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। ঝাসি বাহিনীর প্রধান ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী 1945 সালে ব্রিটিশ সেনার হাতে কারাদণ্ড হন। কিন্তু ভারতীয় জনতার চাপে ব্রিটিশ সরকার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

মূল্যায়ন:-
যদিও পরিশেষে বলা যায় যে, বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও কর্মসূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ কোন ভূমিকা ছিল না। তারা আন্দোলনে স্বতন্ত্র কোনো ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারেনি। নারীদের অংশগ্রহণ ছিল পুরুষদের সহযোগী রূপে। তা সত্ত্বেও বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকাকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here