Click Below

Breaking

Know more

Search

শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

Madhyamik History টীকা লেখ মহারানীর ঘোষণাপত্র


প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, তোমাদের আজ এই ব্লগের মাধ্যমে আমি ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ 4 নম্বর এর প্রশ্নের উত্তরসহ আলোচনা করবো। এই প্রশ্নটি 2019-এ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করবো তোমরা এই প্রশ্নটি ভালো করে করে যাবে। চলো দেখে নেওয়া যাক প্রশ্ন টি কী?
প্রশ্ন:- মহারানীর ঘোষণাপত্র কি বলা হয়? এবং এর গুরুত্ব লেখ।

উত্তর:-
সূচনা:- 
1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পর ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক মহল মনে করে যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হাতে ভারতের মতো একটি বিশাল দেশে শাসন ভার থাকা উচিত নয়। এই কারণে 1858 খ্রিস্টাব্দের 1 লা নভেম্বর মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র মারফত স্বহস্তে ভারতের শাসনভার গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন এবং ভারতীয় শাসন ব্যবস্থায় নতুন নীতি ও আদর্শের কথা ঘোষণা করে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেন যা  মহারানীর ঘোষণাপত্র নামে পরিচিত।

ঘোষণাপত্র পাঠ:- মহারানী ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিরূপে অর্থাৎ ভাইসরয় হিসেবে লর্ড ক্যানিং আনুষ্ঠানিকভাবে এলাহাবাদে 1858 খ্রিস্টাব্দের 1লা নভেম্বর এই ঘোষণাপত্রটিপাঠ করেন।

মূল বক্তব্য:-
এই ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে,
1. ভারতবাসী ধর্মীয় ও সামাজিক কোন ব্যাপারেই সরকার কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।
2. প্রত্যেক ভারতবাসী ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে।
3. জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে যোগ্যতাসম্পন্ন সকল ভারতবাসী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হতে পারবে।
4. স্বত্ববিলোপ নীতি পরিত্যক্ত হবে।
5. দেশীয় রাজারা যারা দত্তক পুত্র গ্রহণ করতে পারবেন।
6. সরকার ভারতে আর রাজ্য বিস্তারে আগ্রহী নয়।
7. দেশীয় রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করা হয় যে, কোম্পানির সঙ্গে স্বাক্ষরিত তাদের সব চুক্তি ও সন্ধি গুলোকে মেনে চলা হবে।

গুরুত্ব ও সমালোচনা :-
বলা বাহুল্য মহারানীর এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি ঘোষণাপত্রে সীমাবদ্ধ ছিল বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটেনি। যথা:-
1. মহারানীর ঘোষণা পত্রে ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের প্রতি সমান আচরণ ও সমানাধিকারের কথা বলা হয় এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা কখনোই সম্ভব হয়নি।
2. ভারতীয়রা যাতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে এই উদ্দেশ্যে মহা বিদ্রোহের পরবর্তীকালে সরকার বিভেদ নীতি অবলম্বন করে।
3.  জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রজার জন্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সমান অধিকার নীতি ঘোষণা করে ও উচ্চ পদস্থ চাকরি গুলোর ক্ষেত্রে ভারতীয়দের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।

মূল্যায়ন:-
 পরিশেষে আমরা ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের ভাষায় মহারানীর এই ঘোষণাপত্রকে বলতে পারি যে এটি হলো          "প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অধ্যায়"।  অনেকেই একে আবার "রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজি" বলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here