Click Below

Breaking

Know more

Search

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ভাবনা - প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ||রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন বিশ্বভারতী ভাবনা


মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন

পঞ্চম অধ্যায় : বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর



 প্রশ্ন 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী ভাবনার মাধ্যমে কীভাবে প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করাে।


উত্তর)

ভূমিকা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারার সমালােচনা করেন এবং শান্তিনিকেতনে ‘ব্ৰত্মচর্যাশ্রম’ নামক এক বিদ্যালয় ও পরবর্তীকালে বিশ্বভারতী স্থাপন করে এক বিকল্পশিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেন।


শান্তিনিকেতন ভাবনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃকশান্তিনিকেতনে ব্ৰত্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল—

(১) এরূপ আবাসিক ব্ৰত্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাচীন ভারতের ব্ৰত্মচর্যাশ্রমের গুরু-শিষ্য সম্পর্ককে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

(২) প্রকৃতি,মানুষ ও শিক্ষার মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে এক নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

শিক্ষাব্যবস্থা : রবীন্দ্রনাথ তার এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন বা শিক্ষণ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন, যেমন-

১) তিন নীতি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এই নতুন ধরনের।শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃতির সঙ্গে যােগ রেখে মনের চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন এবং তিনটি নীতি প্রয়ােগ করেন যথা—অবাধ স্বাধীনতা, অবাধ চলাফেরা ও খেলাধুলা।

২) সাংস্কৃতিক বিষয় : প্রকৃতি থেকে আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার পাশাপাশি কলা, নৃত্য, নাটক, সংগীত, অঙ্কন প্রভৃতি উন্নত সাংস্কৃতিক বিষয়কে পাঠক্রমে রাখা হয়।

৩) কারিগরি শিক্ষা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এই বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ব্যক্তি ও সমষ্টির শিক্ষাদানের সঙ্গে সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থাও করেন বিশ্বভারতী।


বিশ্বভারতী ভাবনা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটে যে সমস্ত আদর্শ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সেগুলি হল—

১)ভারতীয় আদর্শ : শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে ভারতের আদর্শ ও বাণী বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন।

২) নিজের কর্তব্য সম্পাদন : রবীন্দ্রনাথ একজন ভারতীয়রূপে নিজের কর্তব্য সম্পাদনের জন্য বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা করেন।

ভারতীয় সংস্কৃতি : ভারতের সমগ্ররূপ উপলব্ধি করতে ভারতের নানা সংস্কৃতিকে (বৈদিক, বৌদ্ধ, জৈন ও মুসলমান)তুলে ধরা।

4) বিদ্যা উৎপাদন : তার মতে, বিশ্বভারতীর মূল কাজ হবে‌ বিদ্যাচর্চার উৎকর্ষ সাধন বিদ্যা বিতরণ হবে গৌণ কাজ। এই বা উদ্দেশ্যে বিশ্বের মনীষীদের আহ্বান করে বিশ্বভারতীতে তাঁদের আনার কাজ শুরু হয়।

৫) উৎপাদন-শিক্ষা : শিক্ষার্থীদের অর্থশাস্ত্র, কৃষি তত্ত্ব, নানা ব্যাবহারিক বিদ্যাশিক্ষা ও বিশ্বভারতীর চতুর্দিকে তার প্রয়ােগের ব্যবস্থা করাও ছিল তার চিন্তা ভাবনার বিভিন্ন দিক। এরই সূত্র ধরে শ্রীনিকেতনের প্রতিষ্ঠা করা হয়।

উপসংহার : শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের পরিবর্তে প্রকৃতি মানুষ ও শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রচলিত এই শিক্ষা আনন্দপাঠ হলেও ঔপনিবেশিক কাঠামােয় তা সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here