![]() |
| H.S Suggestion |
প্রশ্ন:- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য, এর অবদান, গুরুত্ব এবং ভারতের ভূমিকা এক্ষেত্রে কতখানি আলোচনা কর।
উত্তর:-
সূচনা
জোট নিরপেক্ষ বলতে বোঝায় ধনতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত না থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যে সমস্ত দেশ তাদের বিদেশনীতি পরিচালনা করেছিল সেই নীতিকেই জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি বলা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কথায় "জোট নিরপেক্ষতা নীতি নেতিবাচক নয় এটি হলো ইতিবাচক নীতি।"
বৈশিষ্ট্য
জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য গুলি হল:-
1. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই কম-বেশি সামরিক জোট যথা NATO ও CEATO প্রভৃতির বিরোধিতা করেছে।
2. আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলি ঠান্ডা লড়াই এর সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।
3. প্রত্যেকে মারণাস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করেছে।
4. এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সদস্য রাষ্ট্রগুলির উন্নয়নের জন্য তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেছিল। আর্থিক শ্রী বৃদ্ধির জন্য তারা মিশ্র অর্থনীতি কে গ্রহণ করেছে।
5. সদস্য রাষ্ট্রগুলি ধনী-নির্ধন, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ এই বাছবিচার না করে সমতার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।
6. সদস্য রাষ্ট্রগুলির সকলে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিপুঞ্জের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছিল।
গুরুত্ব:-
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস এই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যথা:-
1. তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা:- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেছে এই পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকতে পেরেছে।
2. ঠান্ডা লড়াই এর আবর্ত থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা:- এই জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করার ফলে এই সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলির নিজেদের ঠান্ডা লড়াই এরা আবর্ত থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছে ফলে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা অনেকাংশেই প্রশমিত হয়েছে।
3. জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে সফল করা জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ কারি সদস্য রাষ্ট্রগুলির উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে যেমন উপনিবেশ বিস্তারকে প্রতিহত করতে পেরেছে ঠিক তেমনি উপনিবেশ উচ্ছেদ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে সফল করতে সাহায্য করেছে।
4. বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দেশ গুলি বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে।
5. তৃতীয় বিশ্বের আর্থিক উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা:- তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম জ্বলন্ত সমস্যা হলো আর্থিক সমস্যা। এই তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলির আর্থিক উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
6. বিশ্ব চেতনাকে জাগ্রত করা:-
জোট নিরপেক্ষ দেশগুলির অস্ত্র প্রতিযোগিতা আর কুফল ও পরমাণু বোমার বিপদ সম্পর্কে বিশ্ব চেতনাকে জাগ্রত করেছে এবং নিরস্ত্রীকরণের পথে অগ্রসর হতে বিশেষ সাহায্য করেছে।
7. নিজ নিজ রাজ্যের মর্যাদা বৃদ্ধিতে:-
জোট নিরপেক্ষ বৃহৎ দেশগুলি একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অংশ নিয়েছে এই ভাবেই তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের ভূমিকা
ভারত শুধু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রবর্তকই নয়; সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যথা:-
1.সামরিক জোট থেকে দূরত্ব রাখা:-
ভারত সর্বদা দুটি শক্তিশালী সামরিক জোট তথা পশ্চিমী ধনতান্ত্রিক জোট এবং রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক জোট থেকে সমুদ্র বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
2.কোরীয় যুদ্ধের ভূমিকা:-
1950 খ্রিস্টাব্দে কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবন্দী সংক্রান্ত যেসব জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তার সমাধানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
3. ভিয়েতনাম এ যুদ্ধে ভূমিকা:-
ইন্দোচীন বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ভারত তার সাম্রাজ্যবাদ ও ও উপনিবেশিকতাবাদ বিরোধী স্বাধীন মতামত প্রকাশ করেছে।
4. মিশর আক্রমণ ও হাঙ্গেরি ঘটনার প্রতিবাদ:-
ভারত 1956 খ্রিস্টাব্দে মিশরের উপর ফরাসি ও ইসরাইলের আক্রমণের বিরোধিতা করেছে এই বছরেই হাঙ্গেরির ঘটনার সময় ভারত সোভিয়েত রাশিয়ারও সমালোচনা করেছে।
5. চিনির জাতিপুঞ্জের স্থায়ী আসন লাভের জন্য সমর্থন চীনের সঙ্গে মিত্রতা থাকার সময় এবং পরবর্তীকালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সম্পর্কের অবনতির সময়ও জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসন লাভের বিষয়টিকে ভারত সমর্থন করেছে।
6. পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্কের চেষ্টা:-
ভারত তার প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে সর্বদা আগ্রহে এ বিষয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের পরামর্শ গ্রহণ করতেও ভারত আগ্রহী।
7. সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরোধিতা:-
ভারত সর্বদা সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতাবাদ এবং বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
মূল্যায়ন:-
পরিশেষে বলা যায় যে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অবদান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 1945 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়নি তার পেছনে কিন্তু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
সার্কের প্রশ্নের উত্তর এই লিঙ্কে পাবে. CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন