প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা এই ব্লগের মাধ্যমে 2019 এ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আসতে পারে একটি অন্যতম 4 নম্বরের প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নটিই তোমাদের ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। চলো দেখে নেওয়া যাক প্রশ্নটা কি:-
টীকা:- মাস্টারদা সূর্যসেন বা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন
সূচনা:-
বাংলা তথা ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন চট্টগ্রাম বিদ্রোহের মুখ্য নায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন।
1. বিপ্লবী দল প্রতিষ্ঠা'-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে সূর্য সেন গণেশ ঘোষ, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিংহ, লোকনাথ বল প্রমুখদের নিয়ে তৈরি করেন একটি বিপ্লবী দল। 1930 খ্রিস্টাব্দে এই দলের নামকরণ করেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি।
2. গুপ্ত কার্যাবলী:-
সূর্যসেনের নেতৃত্বে এই দলের সদস্যবৃন্দরা রেল কর্মীদের বেতন-এর 17 হাজার টাকা লুঠ করেন। সূর্যসেন এই সময় ধরা না পড়লেও অন্যান্য সঙ্গীরা ধরা পড়েন এবং দু বছরের তাদের কারাদণ্ড হয়।
3. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন:-
সূর্যসেনের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য বৈপ্লবিক কার্যকলাপ ছিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। তার নেতৃত্বে 1930 খ্রিস্টাব্দে নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার, কল্পনা দত্ত সহ 65 জন বিপ্লবী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযান চালিয়ে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র লুঠ করেন। তাঁরা পুলিশ লাইন, ডাক ও তার অফিস আক্রমণ করে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে সেখানে স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
4. জালালাবাদের যুদ্ধ:-
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর জালালাবাদ পাহাড়ের বিপ্লবীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল যুদ্ধে 12 জন বিপ্লবী মারা গেলেও সূর্যসেন সহ বাকিরা পালাতে সক্ষম হন।
5. ক্লাব আক্রমণ:-
সূর্যসেনের নেতৃত্বে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার 1932 সালে চট্টগ্রামে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।
6. মৃত্যু:-
অবশেষে সূর্যসেন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিচারে 1934 সালে তার ফাঁসি হয়।
মূল্যায়ন:-
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের এই ঘটনা সমগ্র ভারতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার এই ঘটনাটিকে "ভারতের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে সাহসিকতাপূর্ণ কাজ" বলে অভিহিত করেছেন।
![]() |
| Madhyamik suggestion |
টীকা:- মাস্টারদা সূর্যসেন বা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন
সূচনা:-
বাংলা তথা ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন চট্টগ্রাম বিদ্রোহের মুখ্য নায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন।
1. বিপ্লবী দল প্রতিষ্ঠা'-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে সূর্য সেন গণেশ ঘোষ, অম্বিকা চক্রবর্তী, অনন্ত সিংহ, লোকনাথ বল প্রমুখদের নিয়ে তৈরি করেন একটি বিপ্লবী দল। 1930 খ্রিস্টাব্দে এই দলের নামকরণ করেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি।
2. গুপ্ত কার্যাবলী:-
সূর্যসেনের নেতৃত্বে এই দলের সদস্যবৃন্দরা রেল কর্মীদের বেতন-এর 17 হাজার টাকা লুঠ করেন। সূর্যসেন এই সময় ধরা না পড়লেও অন্যান্য সঙ্গীরা ধরা পড়েন এবং দু বছরের তাদের কারাদণ্ড হয়।
3. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন:-
সূর্যসেনের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য বৈপ্লবিক কার্যকলাপ ছিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন। তার নেতৃত্বে 1930 খ্রিস্টাব্দে নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার, কল্পনা দত্ত সহ 65 জন বিপ্লবী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযান চালিয়ে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র লুঠ করেন। তাঁরা পুলিশ লাইন, ডাক ও তার অফিস আক্রমণ করে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে সেখানে স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
4. জালালাবাদের যুদ্ধ:-
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর জালালাবাদ পাহাড়ের বিপ্লবীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল যুদ্ধে 12 জন বিপ্লবী মারা গেলেও সূর্যসেন সহ বাকিরা পালাতে সক্ষম হন।
5. ক্লাব আক্রমণ:-
সূর্যসেনের নেতৃত্বে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার 1932 সালে চট্টগ্রামে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।
6. মৃত্যু:-
অবশেষে সূর্যসেন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিচারে 1934 সালে তার ফাঁসি হয়।
মূল্যায়ন:-
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের এই ঘটনা সমগ্র ভারতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের উদ্বুদ্ধ করে। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার এই ঘটনাটিকে "ভারতের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে সাহসিকতাপূর্ণ কাজ" বলে অভিহিত করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন