Click Below

Breaking

Know more

Search

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮

Madhyamik History টীকা লেখ:- হিন্দু মেলা

টীকা লেখ:- হিন্দুমেলা
Madhyamik History suggestion
Madhyamik History


সূচনা:-
 ভারতীয় জাতীয় জাগরণে বাংলার কয়েকটি সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল যার মধ্যে নবগোপাল মিত্রের 'চৈত্র মেলা' যার পরে নাম হয় 'হিন্দু মেলা' ছিল অন্যতম। 1867 খ্রিস্টাব্দে রাজনারায়ণ বসু, নবগোপাল মিত্র এটি গঠন করেন এবং এর স্থায়িত্ব ছিল প্রায় 13 বছর।

উদ্দেশ্য:-
 হিন্দু মেলার প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য গুলি হল:-
1. দেশীয় ভাষা চর্চা করা।
2. স্বদেশী ভাবধারায় দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা।
3. হিন্দু জাতিকে জাতীয়তা আদর্শে ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা।
4. এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার  করা।
5. জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে মর্যাদা দেওয়া।
6. সাধারণ মানুষের মধ্যে হিন্দু ধর্মের অতীত গৌরব গাঁথা ছড়িয়ে দেওয়া।

কর্মসূচি:-
 এই সংগঠনের কর্মসূচির আওতায় ছিল লাঠি, তলোয়ার খেলা, প্রদর্শনী, দেশাত্মবোধক সংগীত, বক্তৃতা প্রভৃতি। এই সকল কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতে জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়।

বৈশিষ্ট্য:-
 এর বৈশিষ্ট্য গুলি হল
1. এই প্রতিষ্ঠানটি এর সকল সদস্যই ছিল হিন্দু। 2. এই মেলায় স্বরচিত কবিতা, সংগীত পরিবেশিত হতো। উদাহরণস্বরূপ 14 বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'হিন্দু মেলার উপহার' কবিতা টি এখানে আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন।

সদস্যসমূহ:-
হিন্দু মেলা সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদস্যগণ ছিলেন রাজনারায়ণ বসু, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, পিয়ারিচরণ সরকার, রমানাথ ঠাকুর প্রমুখ।

মূল্যায়ন:-
হিন্দু মেলার কাজ-কর্মের সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকের মতে এখানে শুধু বাঙালির চিন্তা এবং বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। মুসলিমদের কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে সমালোচনা সত্ত্বেও এর গুরুত্ব থেকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না। এ প্রসঙ্গে বিপিনচন্দ্র পাল যথার্থই মন্তব্য করেছেন 'যে নবগোপাল মিত্র এর কাছে আমরা প্রথম জাতীয়তাবাদী প্রেরণা পেয়েছিলাম।'

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here