মাধ্যমিক ইতিহাস সপ্তম অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
বিশ শতকের ভারতে নারী,ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন
মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন
1. বিশ্ব থেকে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী প্রধান জাতীয় আন্দোলন গুলির নাম উল্লেখ করো।
Ans. প্রধান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গুলি ছিল -
১. বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলন ( ১৯০৫-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ)
২. অহিংস অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-১৯২২ খ্রিস্টাব্দ)
৩. আইন অমান্য আন্দোলন ( ১৯৩০-১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)
৪. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ)
2. কে কবে কোন পত্রিকার মাধ্যমে সর্বপ্রথম বয়কট আন্দোলনের ডাক দেন?
Ans. কৃষ্ণ কুমার মিত্র তাঁর সম্পাদিত সঞ্জীবনী পত্রিকায় সর্বপ্রথম ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে 16 ই অক্টোবর বয়কট আন্দোলনের ডাক দেন।
3.বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন নারীর নাম লেখ এবং তারা কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন?
Ans. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নারী ছিলেন সরলা দেবী চৌধুরানী, হেমাঙ্গিনী দাস, কুমুদিনী মিত্র, কুমুদিনী বসু, নির্মলা সরকার প্রমুখ।
তারা আছি পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা হল - ১. বঙ্গভঙ্গের দিন ঘরে ঘরে অরন্ধন ও উপবাস পালন করেন।
২. বিভিন্ন পণ্য বয়কট ও মিটিং মিছিলে যোগ দেওয়া এবং বিলিতি দোকানের সামনে পিকেটিং চালানো।
4. আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের নাম লেখ তারা কি ধরনের কর্মসূচি নেয়?
Ans. আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য নারী হলেন বাসন্তী দেবী ও উর্মিলা দেবী।
এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীরা - বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের আবেদন জানান, বিভিন্ন সভা ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন, বিলেতি পণ্যের দোকানের সামনে পিকেটিং চালান।
5. ডান্ডি অভিযান কি?
Ans. ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইন ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে মহাত্মা গান্ধী তার ৭৮ জন অনুগামী নিয়ে সমুদ্রতীরবর্তী ডান্ডি নামক স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ২৪১
দিনব্যাপী এই যাত্রা ডান্ডি অভিযানের নামে পরিচিত।
6. আইন অমান্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন নারীর নাম লেখ।
Ans. আইন অমান্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন নারী হলেন - কস্তুরবা গান্ধী, উর্মিলা দেবী, বাসন্তী দেবী, সরলাবালা দেবী, কমলা নেহেরু, সরোজিনী নাইডু প্রমুখ।
7. লীলা নাগ (রায়) কেন বিখ্যাত?
Ans. লীলা নাগ (রায়) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় দিপালী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন একজন নারী বিপ্লবী।১৯৩১খ্রিস্টাব্দে তিনি জয়শ্রী নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
8. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারীর নাম লেখ?
Ans. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারী হলেন- মাতঙ্গিনী হাজরা, সুচেতা কৃপালিনী, অরুনা আসফ আলী প্রমূখ।
9. কে কবে সত্যশোধক সমাজ গঠন করেন?
মহারাষ্ট্রের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা জ্যোতিবা ফুলে 1873 খ্রিস্টাব্দে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। দীনমিত্র’ ছিল এই সমাজের মুখপত্র।
উদ্দেশ্যঃ- ব্রাত্মণদের একচেটিয়া আধিপত্য, জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতার অবসান ঘটানো এবং দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
10.হরিজন আন্দোলন কী?
গান্ধিজি অনুন্নত সম্প্রদায় তথা দলিতদের নামকরণ করেছিলেন হরিজন। এদের সামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সোচনীয়। সমাজে এরা অস্পৃশ্যরূপে পরিগণিত হত। এই জন্য গান্ধিজি অস্পৃশ্যতা দূর করা, তাদের সামজিক অবস্থার উন্নতি প্রভৃতির জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন যা হরিজন আন্দোলন নামে পরিচিত।
11.গান্ধীজী লবন আইন ভঙ্গ করেন কেন?
ভারতে ব্রিটিশ শাসন ও শোষনের নানা দিকের মধ্যে অন্যতম হল অতিরিক্ত লবন কর।লবন হল মানুষের জীবনের অত্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। সরকার এই লবনের উপর মাত্রাতিরিক্ত কর বসিয়েছিল।ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন গান্ধিজী প্রথমে অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেন এবং তা ব্যর্থ হলে তিনি আইন ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্দেশ্যে 1930 খ্রিস্টাব্দের 12 মার্চ গান্ধিজি তার 78 জন সহযোগীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে 24 দিনে 241 মাইল পথ অতিক্রম করে গুজরাটের সমুদ্র উপকূলের ডান্ডিতে পৌছোন। 6 এপ্রিল সমুদ্রের জল থেকে নিজ হাতে লবণ তৈরি করে লবণ আইন ভঙ্গ করেন এবং আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন।
12.দলিল সম্পর্কে গান্ধীজীর মত কি ছিল?
ড. আম্বেদকরের সঙ্গে গান্ধিজীর বিতর্ক প্রসঙ্গে দলিত সম্পর্কে গান্ধিজীর মতামত পাই- গান্ধীজী ছিলেন বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার সমর্থক এবং প্রবল অস্পৃশ্যতা বিরোধী। তাঁর কাছে দলিতরা ছিল হরিজন বা ঈশ্বরের সন্তান। তিনি দলিত সম্প্রদায়কে পূর্ণ অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই জাতীয় কংগ্রেস প্রথম দলিত সমস্যা নিরসনে উদ্যোগী হয়। তিনি চাইতেন বর্ণাশ্রম ব্যবস্থাকে অক্ষুন্ন রেখে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও দলিত সম্প্রদায়ের কল্যাণ।
13.নমঃশূদ্র আন্দোলন কি?
অথবা নমঃশূদ্র নামে কারা পরিচিত
পূর্ব বাংলার খুলনা, যশোহর, ফরিদপুর ও বরিশালের প্রান্তিক কৃষিজীবী সম্প্রদায় নমঃশূদ্র’ নামে পরিচিত।সামাজিক দিক থেকে এঁরা ছিল হিন্দুসমাজে অস্পৃশ্য ও অন্ত্যজ। এরূপ সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে তারা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা নমঃশূদ্র আন্দোলন নামে পরিচিত।
14.প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণীয় কেন ?
মাতৃমুক্তির যজ্ঞে যে-সকল নারী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মাস্টারদা সূর্য সেনের অনুগামিনী, ইন্ডিয়ান রিপাবলিক দলের সদস্য, চট্টগ্রামের প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তাঁদের মধ্যে বিশেষ স্মরণীয়া।। দীপালি সংঘ’ও ‘ছাত্রী সংঘের সদস্যা প্রীতিলতা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে (1930 খ্রি.) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধ (1930 খ্রি.), ধলঘাটের যুদ্ধেও (1932 খ্রি.) তিনি অংশ নেন। তিনি 15 জন সদস্য নিয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলির ইউরোপীয় ক্লাব । ধ্বংস করেন। ধরা পড়ার পূর্বে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মাত্র 21 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ভারতের মুক্তি সংগ্রামের প্রথম মহিলা শহিদ।
15. লীলা নাগ কেন স্মরনীয়?
লীলা নাগ ছিলেন দীপালি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা। আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় তিনি 6 বছরের জন্য কারারুদ্ধ হন। তিনি সুভাষচন্দ্রের প্রেরণায় কংগ্রেসে যোগ দেন। সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস ছেড়ে ফরওয়ার্ড ব্লক দল গঠনে লীলা নাগ তাতে যোগ দেন। তিনি ভারতীয় গণপরিষদে যোগ দিয়ে ভারতের সংবিধান রচনায় অংশ নেন।
16.কার্লাইল সার্কুলার কেন জারি করা হয়?
অথবা কার্লাইল সার্কুলার কি?
1905 খ্রিস্টাব্দে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনে ছাত্রসমাজ সক্রিয়ভাবে ঝাপিয়ে পড়লে ছাত্র আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে বাংলা সরকারের মুখ্যসচিব কার্লাইল একটি দমনমূলক সার্কুলার বা ঘোষণা জারি করেন। এটি কার্লাইল সার্কুলার নামে পরিচিত। এই সার্কুলারের দ্বারা ছাত্রদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি'প্রভৃতি নিষিদ্ধ হয়।
17.অলিন্দ যুদ্ধ কী?
1930 খ্রিস্টাব্দের 8 ডিসেম্বর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স বা বি ভি দলের তিনজন সদস্য বিনয়কৃষ্ণু বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত বাংলার শাসনকেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ আক্রমণ করেন। তারা অত্যাচারী কারা অধিকর্তা সিম্পসন ও উচ্চপদস্থ কর্মচারী ক্রেগকে হত্যা করেন। অতঃপর টেগার্টের নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গে মহাকরণের অলিন্দ বা বারান্দায় বিপ্লবীদের গুলির যুদ্ধ চলে। এটি অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
18.রসিদ আলি দিবস’ কেন পালিত হয়েছিল?
রসিদ আলি ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর একজন ক্যাপটেন।1946 খ্রিস্টাব্দের 11 ফেব্রুয়ারি তার সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষিত হলে প্রতিবাদে বাংলা প্রদেশ ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। তার মুক্তির দাবিতে 11 ফেব্রুয়ারি মুসলিম ছাত্র লিগ কলকাতায় ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি রসিদ আলি দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি এতে যোগদান করে।কয়েকদিনের সংঘর্ষে কলকাতায় প্রায় 200 জন, সরকারি হিসেবে 84 জনের মৃত্যু হয়।
20.ভাইকম সত্যাগ্রহ' কী?
1924 খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের বিশিষ্ট সাধক, সন্ন্যাসী ও সমাজসংস্কারক শ্রীনারায়ণ গুরুর নেতৃত্বে শুরু হয় ভাইকম সত্যাগ্রহ আন্দোলন।দক্ষিণ ভারতের একটি হিন্দু মন্দিরমুখী রাস্তা নিম্নবর্ণের মানুষ যথা এজহারা ও পুলায়াদের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলে এরই বিরুদ্ধে শুরু হয় ‘ভাইকম সত্যাগ্রহ আন্দোলন’। উচ্চশিক্ষা, সরকারি চাকরি, সামাজিক মর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার আদায় ইত্যাদি ছিল এর লক্ষ্য। গান্ধিজি এই আন্দোলন সমর্থন করেন। এই সংস্কার আন্দোলন দক্ষিণ ভারতে হিন্দু সংস্কার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে
21.. টীকা লেখঃ-পুনা চুক্তি?
সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ নীতির বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধি। যারবেদা জেলে অনশন শুরু করলে গান্ধিজির জীবন সংকট
দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে দলিত সম্প্রদায়ের নেতা | বি. আর. আম্বেদকর গান্ধিজির সঙ্গে 1932 খ্রিষ্টাব্দের 25 সেপ্টেম্বর এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা ‘পুনা চুক্তি’ নামে পরিচিত। এই চুক্তি অনুসারে বর্ণহিন্দু ও অনুন্নত হিন্দুত্যাগ দলিতদের একসঙ্গে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয় এবং আইনসভায় দলিতদের জন্য বেশ কয়েকটি আসন সংরক্ষণ করা হয়।
22. বীণা দাস ইতিহাসে স্মরণীয় কেন?
কলেজ ছাত্রী বীণা দাশ (1911-86 খ্রি.) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সময় সেনেট হলে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার জন্য গুলি করেন (1932 খ্রিস্টাব্দের 6 ফেব্রুয়ারি)। জ্যাকসন অল্পের জন্য বেঁচে যান এবং জ্যাকসনকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে বীণা দাসের নয় বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। এভাবে বীণা দাস বিপ্লবীর মর্যাদা লাভ করেন ও একারণেই তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
23. ননীবালা দেবী স্মরণীয় কেন ?
অমরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মেজো পিসি ননীবালা। দেবী বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনকালে বিপ্লবীদের আশ্রয়দান। ও গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করেন। এই অপরাধে তাকে। ব্রিটিশ সরকার আটক করে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য ভাব। উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েও পুলিশ তার কাছ থেকে বিপ্লবীদের কোনো গোপন তথ্য আদায় করতে পারেনি।
24.অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি' কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
কলকাতা রিপন কলেজের (বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) ছাত্র শচীন্দ্রনাথ বসু ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে ‘অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি' গঠন করে প্রধানত কার্লাইল সার্কুলারের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত বাসরকারি স্কুলকলেজ থেকে বিতাড়িত ছাত্রদের শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করা, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্যই ‘অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
25.সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি কী?
1932 খ্রিস্টাব্দের 16 আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড সাইমন কমিশনের রিপোর্ট, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের দাবির ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি ঘোষণা করেন।
এর দ্বারা বর্ণহিন্দু, অনুন্নত হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান প্রভৃতি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্দেশ্যঃ- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়কে পৃথক নির্বাচনের সুযোগ দান করে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা।দলিত নেতা আম্বেদকর একে সমর্থন করলেও গান্ধিজি এর বিরোধিতা করেন।
25.দলিত কাদের বলা হয়?
মারাঠি সাহিত্য থেকে দলিত' শব্দটি গৃহীত হয়েছে। ব্যুৎপত্তিগতভাবে দলন’ থেকেই ‘দলিত’ কথাটি এসেছে। এর অর্থ হল দমন করা বা বলপূর্বক দমিয়ে রাখা। ভারতীয় হিন্দু সমাজব্যবস্থায় এক অধিকারহীন পিছিয়েপড়া, অনুন্নত সম্প্রদায়ই দলিত’ নামে পরিচিত। উচ্চবর্ণের মানুষের দ্বারা এরা ছিল অবহেলিত, পদদলিত। অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ইত্যাদি অধিকার থেকে এরা ছিল বঞ্চিত । মন্দিরে প্রবেশ, দীঘি বা পুকুর বা ইঁদারার জল ব্যবহার, স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এরা ছিল অবাঞ্ছিত।।
গান্ধিজি এদের হরিজন’ আখ্যা দেন। ড. বি. আর আম্বেদকর ছিলেন এঁদের নেতা। কেরলে এরা ‘এজহারা’, তামিলনাড়ুতে ‘নাদার’, মহারাষ্ট্রে ‘মাহার, দিল্লিতে বাল্মিকী’, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ‘চামার’, বাংলায় নমঃশূদ্র ও সরকারি পরিভাষায় তফশিলিভুক্ত জাতি’ নামে পরিচিত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন