Click Below

Breaking

Know more

Search

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় - ইতিহাসের ধারণা ( 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর )

 মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় - ইতিহাসের ধারণা

গুরুত্বপূর্ণ 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর 



1.ইতিহাসচর্চায় ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্রের গুরুত্ব কী?

Ans: ফটোগ্রাফ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিবরণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পাওয়া যায় বলে ঐতিহাসিক ঘটনার প্রামাণ্য ভিত্তি আরও দৃঢ় হয় । ফটোগ্রাফি থেকে অতীতের কোনো বিষয়ের আলোকচিত্র ইতিহাসের উপাদান হিসেবে তথ্য যোগায় ।প্রচলিত তথ্য বা ঘটনার সত্যাসত্য এর দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয় ।

2.খেলার ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব কী?

Ans: খেলার ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে লিঙ্গগত এবং জাতিগত বৈষম্য দূর হয় । কোন দেশ বা জাতির অতীত বিনোদন সম্পর্কে যেমন জানা যায় তেমনি জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করে এই খেলাধূলা ।তাছাড়া দুটো দেশ, সম্প্রদায় বা জাতির মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় ।

3.নতুন সামাজিক ইতিহাস বলতে কী বোঝ?                অথবা       সামাজিক ইতিহাস কী?

Ans: 1960-70 এর দশক থেকে নতুন সামাজিক ইতিহাস চর্চায় শুধু রাজা – মহারাজা ও অভিজাতবর্গের আলোচনা নয় ;সাধারণ মানুষ, নিম্নবর্গীয় সমাজ, প্রান্তিক অন্ত্যজদের আলোচনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন গুরুত্ব পেয়েছে । ড. রণজিৎ গুহ ভারতে নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা শুরু করেন ।নতুন সামাজিক ইতিহাস চর্চার দ্বারা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, জাতি – বর্ণ, হিংসা ও সম্প্রীতির অনুসন্ধান করা যায় ।

4. নিম্নবর্গের বা নিম্নবর্গীয় ইতিহাসচর্চা বলতে কী বোঝ?

Ans: 1980 – এর দশক থেকে ভারত – সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের নিম্নবর্গের মানুষজনদের নিয়ে যে ইতিহাসচর্চা শুরু হয় তাকেই বলা হয় নিম্নবর্গীয় ইতিহাস । সমাজে যারা তথাকথিত অন্ত্যজ ও দলিত নামে পরিচিত সেইসব শ্রেণির কথা ও কাহিনি এই ধরনের ইতিহাসচর্চার বিষয়বস্তু ।রণজিৎ গুহ, পার্থ চ্যাটার্জি, জ্ঞানেন্দ্র পান্ডে প্রমুখ ঐতিহাসিক এই ধরনের ইতিহাসচৰ্চা শুরু করেন ।

5.পরিবেশের ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব কি ?

Ans. পরিবেশের ইতিহাস চর্চার প্রধান দুটি গুরুত্ব হলো

১. পরিবেশের ওপর বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে যেমন জানা যায়। পাশাপাশি

২. পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন হওয়া যায়।

5.স্থাপত্যের ইতিহাস বলতে কী বোঝ?

Ans: ” স্থাপত্য ” শব্দটির উদ্ভব “স্থা ” থেকে, যার অর্থ কোনো কিছু স্থাপন বা তৈরি করা  ।স্থাপত্যগুলিরমধ্যে নানা সৌধ, প্রাসাদ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার, সমাধি প্রভৃতি বোঝায় ।স্থাপত্যকীর্তি নির্মাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রয়োগের ধারণা, শিল্পকলার বিবর্তন ও উন্নয়ণের ধারা এবং মানুষের রুচিবোধ, ধর্মবিশ্বাস, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ধারণা পাওয়া যায়।

 6. অ্যানাল স্কুল বা অ্যানাল পত্রিকা গোষ্ঠী বলতে কী বোঝ?

Ans: 1928 খ্রি : মার্ক ব্লখ ও লুসিয়েন ফেবর ফ্রান্সে দ্য অ্যানাল নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন |পরের বছর অর্থাৎ 1929 খ্রি : তাঁদেরই হাত ধরে গড়ে ওঠে অ্যানাল স্কুল বা অ্যানাল পত্রিকা গোষ্ঠী|এই পত্রিকা গোষ্ঠীর উদ্যোগে সাধারণ মানুষের জীবন – জীবিকা ও তাদেরজীবন সংগ্রামের কথা নিয়ে নতুন ভাবে total history বা সামগ্রিক ইতিহাস চৰ্চা শুরু হয় |

7. নারী ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব কি?

Ans. নারী ইতিহাস চর্চার প্রধান দুটি গুরুত্ব হলো, এর দ্বারা -

১. ইতিহাসে নারীর ভূমিকা, নারীর গুরুত্ব, নারীর অবদান সম্পর্কে জানা যায়।

২. পাশাপাশি ইতিহাসে নারী যথার্থ অবদান, নারীর ভূমিকা এই বিষয়গুলোকে মর্যাদাও দেওয়া হয়।

8. Total history বা সামগ্রিক ইতিহাস কী?

Ans: নতুন সামাজিক ইতিহাস চর্চায় শুধু রাজা- মহারাজা ও অভিজাত বর্গের আলোচনা নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে এবং সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ইতিহাস চর্চা শুরু হয়েছে |এটিই হল total history বা সামগ্রিক ইতিহাস |ফ্রান্সে মার্ক ব্লখ, লুসিয়েন ফেবর প্রমুখের নেতৃত্বে অ্যানাল স্কুল total history চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

9.শিল্পচর্চার ইতিহাস বলতে কী বোঝ?

Ans: শিল্পচর্চার ইতিহাস বলতে সংগীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস বোঝায় |এই বিষয়গুলির ইতিহাস আধুনিক ইতিহাসচর্চার অন্যতম বিষয়রূপে স্বীকৃত |এগুলি কোনো বিশেষ জনজাতির সাধারণ অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানাদিক তুলে ধরে |

10.আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা কাকে বলে?

Ans: কোনো ব্যক্তি যখন সাবলীলভাবে নিজেই নিজের জীবনকথা সাহিত্যের আকারে লেখেন তখন তাকে আত্মজীবনী বলে |যেমন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ” জীবনস্মৃতি ” |

           কোনো ব্যক্তির নিজের জীবনের স্মৃতিগুলি যখন সাহিতরূপে লিখিতভাবে বাস্তব রূপ নেয় তখন তাকে স্মৃতিকথা বলে |যেমন – দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের ” ছেড়ে আসা গ্রাম ” |

11.আত্মজীবনী কীভাবে ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে?

Ans: আত্মজীবনী একটি লিখিত সাহিত্যিক উপাদান, যার মাধ্যমে সমকালীন সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাবলী, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সমকালীন আর্থসামাজিক পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা যায় |আত্মজীবনীতে উল্লিখিত লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিগুলি ইতিহাসের মূল্যবান উপাদান হিসেবে কাজে লাগতে পারে |

12.ইতিহাস চর্চায় স্থানীয় ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কেন?

Ans: স্থানীয় ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জায়গার লোকপরম্পরা, শিল্প -স্থাপত্যের বিকাশ, আর্থসামাজিক বিবর্তন সম্পর্কে জানা যায় |জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে স্থানীয় ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

13.সরকারি নথিপত্র বলতে কী বোঝ?

Ans: যে সমস্ত নথিপত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, ঘোষণা, আইন – কানুন, ঘটনাবলি ইত্যাদি তথ্যের আকারে সংরক্ষিত হয় তাকেই বলে সরকারি নথিপত্র |সরকারি নথিপত্র সাধারণত State Archives বা National Archives – এ সংরক্ষিত থাকে |

14.দুটি সরকারি নথিপত্রের উদাহরণ দাও ।

Ans: 1835 খ্রিস্টাব্দের মেকলে মিনিটস এবং 1883 খ্রিস্টাব্দের হান্টার কমিশনের রিপোর্ট |

15.সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্রের পার্থক্য কী?

Ans: 1. সাময়িকপত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রকাশিত হয় |যেমন – সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ইত্যাদি |কিন্তু সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় প্রতিদিন |

 2.সাময়িকপত্রে সমকালীন খবরাখবরগুলি ছাড়াও কোনো মৌলিক রচনা বা গবেষণাকর্ম যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয় |কিন্তু সংবাদপত্রে সাম্প্রতিক খবর পরিবেশনই বেশি গুরুত্ব পায় |

3. সাময়িকপত্রের উদাহরণ হল – সমাচার দর্পণ, সংবাদপত্রের উদাহরণ হল – আনন্দবাজার পত্রিকা, বর্তমান ইত্যাদি |

16.ইতিহাসের উপাদানরূপে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কী?

Ans: সংবাদপত্রগুলিতে উল্লিখিত সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক খবরাখবর থেকে তথ্যাদি সংগ্রহ করে সেগুলি ইতিহাস রচনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে |কোনো ঘটনা সম্পর্কে মানুষের জনমত, জনগণের অসন্তোষ, ক্ষোভ, বিদ্রোহ প্রভৃতি বিষয়ও সংবাদপত্র থেকে জানা যায় |

17.কোন সময়কে কেন বঙ্গদর্শনের যুগ বলা হয়?

Ans: 1870 – এর দশককে বঙ্গদর্শনের যুগ বলা হয় |কারণ এই সময় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ও প্রকাশিত বঙ্গদর্শন পত্রিকাটি ছিল সাহিত্য, শিল্প ও স্বাদেশিকতার আদর্শে পরিপূর্ণ |” বন্দেমাতরম ” সংগীতটি প্রথম এই পত্রিকাতেই ছাপা হয় |

18.শিল্পচর্চার ইতিহাস বলতে কী বোঝ?

Ans: শিল্পচর্চার ইতিহাস বলতে সংগীত, নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের ইতিহাস বোঝায় |এই বিষয়গুলির ইতিহাস আধুনিক ইতিহাসচর্চার অন্যতম বিষয়রূপে স্বীকৃত |এগুলি কোনো বিশেষ জনজাতির সাধারণ অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানাদিক তুলে ধরে |

19. ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেটের অসুবিধা গুলি কী, কী?

Ans. ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেট ব্যবহারের অসুবিধা গুলি হল- 

১. ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকে।

২. অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের অসত্য অর্ধসত্য তথ্য গবেষণার গুণগতমান কমিয়ে দেয়।

৩. অনেক সময় এই তথ্যগুলি মনগড়া থাকে।

20. ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা গুলো কী, কী?

Ans. ইতিহাসে তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা গুলি হল -

১. ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসে খুব সহজেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

২. ইন্টারনেট খুব দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে সহায়তা করে।

৩. এবং খুব কম খরচে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here