ধনতেরাসের কোন কিছু কেনাকাটার শুভক্ষণ - ধনতেরাসের পুজো করার নিয়ম
আর মাত্র কয়েকটা দিনের পরে আসছে দীপাবলি। আর এই দীপাবলী মূলত পাঁচদিনের উৎসব। এই দীপাবলির অন্তর্গত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দিনটি হলো ধনা ত্রয়োদশী বা ধনতেরাস। ধন শব্দের অর্থ হলো সম্পত্তি।এবং ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডার এর 13 তম দিন। এই কারণে এই উৎসবের নাম ধনতেরাস। ২০২০ সালে অর্থাৎ ১৪২৭ বঙ্গাব্দে ধনতেরাস ঠিক কোন দিন পড়েছে? এবং এর পুজোর সঠিক সময় ই বা কি? কোন সময়ে সোনা বা রুপা কেনা শুভ - এই সমস্ত কিছু এবার আলোচনা করব।
প্রতিবছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশীতে ধনতেরাস উৎসব পালন করা হয়ে থাকে। এই বছরেও একই নিয়মে পালিত হবে। এই দিন ধনদেবী অর্থাৎ মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। মা লক্ষ্মী হলেন রজোগুণের প্রতীক। সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি মা লক্ষ্মী প্রদান করে থাকেন। এই ধনতেরাসের দিন বিশেষ সময় কে অত্যন্ত শুভ মানা হয় আর এই সময়ই সোনা রুপা বা বিভিন্ন বিশুদ্ধ ধাতুর বাসনপত্র মানুষ কিনে থাকেন।
এই বছর ধনতেরাস পড়েছে ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। ঐদিন কালীপূজা। ধনতেরাস এর জন্য পুজোর সবথেকে শুভ সময় হল সন্ধ্যেবেলা । এবছর সন্ধ্যে ৫ টা ২৮ মিনিট থেকে ৫ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময় হল সবথেকে শুভ সময় কোন কিছু কেনাকাটার জন্য। আর এই সময়কালে পূজার জন্য অত্যন্ত শুভ।
এই দিন ধনদেবী মা লক্ষী, গণেশ জি এবং ধনদেবতা কুবের আরাধনা করা হয়। গৃহে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য এই পুজো করা হয়।কথিত রয়েছে এই দিন সমুদ্রমন্থনের সময় হাতে সোনার কলস নিয়ে ধনদেবী মা লক্ষ্মীর জন্ম হয়েছিল সমুদ্র থেকে। আবার এই দিনে ধনদেবতা কুবের আরাধনায় মহালক্ষী বা আদিলক্ষী সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং তাকে বিপুল ধন-সম্পদ প্রদান করেছিলেন। পাশাপাশি এই বিষয়টিও প্রচলিত রয়েছে যে এইদিন রাজা হিমের ছেলেকে বিয়ের চতুর্থ দিন যমদেবের হাত থেকে বাঁচাতে নববধূ একটা অভিনব উপায় অবলম্বন করেছিলেন।এই দিন তিনি প্রচুর ধনরত্ন সোনারূপো বাসনপত্র আর প্রদীপ দিয়ে ঘরের দরজা সম্পূর্ণরূপে ঘিরে রাখেন। প্রদীপের আলোয় এত ধাতুর জৌলুসে যমের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এই কারণে এই দিন বাড়িতে বাড়িতে প্রদীপ ধরানো হয়ে থাকে বাড়ির সকলের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে। অশুভ শক্তির বিনাশ এর জন্য ধাতু কিনে প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় ধনদেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা।
তবে ধনতেরাসের দিন মা লক্ষ্মীর পূজার বেশকছু নিয়ম রয়েছে। ধনতেরাস এর আগে সারা বাড়ি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হয়। কারণ মা লক্ষ্মী কখনোই নোংরা ,অপরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন না। এইজন্যই ধনতেরাসের দিন সারা বাড়ি,বিশেষ করে মূল প্রবেশ পথের ওপর রঙ্গলি দিতে হয়। এছাড়াও লাল রঙের রংগুলি গুঁড়ো দিয়ে মা লক্ষ্মীর পায়ে আলপনা আঁকতে হয়। এরপর নিজের মতো করে মা লক্ষ্মী দেবীকে পূজা করতে হয়।
এর জন্য প্রথমে একটি লাল কাপড় নিতে হয়। এরপর একটি ঘর বা বাটি নিতে হয়। মনে রাখতে হবে যে, এই পাত্রটির যেন ধনতেরাসের জন্য নতুন কেনা হয়। এবার এই পাত্রের মধ্যে চাল দিতে হয়। এছাড়াও, পাঁচটি সুপারি এবং একুশটি পদ্মবীজ দিতে হয়। সেই সঙ্গে আরও একটি ঘটিতে গঙ্গা জল ভরে তার মধ্যে চিনি এবং সোনা রুপোর পয়সা দিতে হয়। আর জলের উপরে ফুল বা মালা দিতে হয়। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে,ঘরের লক্ষী দেবী এবং গণেশের মূর্তি থাকলে যে জিনিসটি ধনতেরাসের দিন কিনে এনেছেন সেটি মা লক্ষ্মীর মূর্তির পাশে ডান দিকে রেখে দিতে হয়। এরপর একটি নতুন প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে হবে। এই প্রদীপটি যেন টানা দু ঘন্টা ধরে চলে।এছাড়াও ভগবানকে উৎসর্গ করে কিছু মিষ্টি এবং নৈবেদ্য দিতে হবে।
এরপর মা লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে মনে মনে প্রণাম জানিয়ে তাকে আহবান করতে হবে। এবং পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবশ্যই মা লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করা প্রয়োজন। মনকে লক্ষিতি স্থির রেখে সর্বদা এই পূজা করা উচিত। পূজার সময় যে বিষয়টি সব থেকে বেশি প্রয়োজন তাহলো ভক্তি, নিষ্ঠা এবং বিশ্বাস।
মা লক্ষ্মীর কৃপায় আপনার পরিবার সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক এই কামনা করে সকলের উদ্দেশ্যে জানাই শুভ ধনতেরাস। এই ধনতেরাসের দিন কোন গ্রুপ কোন কলহ বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবেন না, এবং এই দিন বাড়িতে আগত কোন দীন, দুঃখী, গরিব মানুষকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন না, আপনার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে কিছু দান করুন।
জয় মা লক্ষ্মী। 🙏



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন