উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস
তৃতীয় অধ্যায়ঃ ৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন, (4+4=8 নাম্বার)
দেওয়ানি লাভের পটভূমি লেখ ও এর গুরুত্ব কী ছিল?
অথবা
1765 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানির 'দেওয়ানি লাভ' সম্পর্কে যা জানো লেখ। এই দেওয়ানি লাভের ফলাফল কি হয়েছিল?
ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় যে সমস্ত আর্থসামাজিক ঘটনাগুলি সমাজের ভিত্তি দৃঢ় করে, তার মধ্যে 1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভ ছিল অন্যতম। পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধে জয়ী হয়ে কম্পানি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চেয়েছিল। এই লক্ষ্যে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের উদ্যোগ নেয়।
পটভূমি:-
১) বাংলার নবাবের সাথে চুক্তি:-মীরজাফরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র বাংলার সিংহাসনে বসেন। 1765 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানি এক চুক্তির মাধ্যমে বাংলার নবাব কে পুতুলে পরিণত করে সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করে।
2) অযোধ্যার নবাব এর সাথে চুক্তি:-বক্সার যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা কোম্পানির সাথে এলাহাবাদের সন্ধি করতে বাধ্য হয়। এই সন্ধি দ্বারা কম্পানি তার কাছ থেকে 50 লক্ষ টাকা এবং 'কারা', 'এলাবাদ' প্রদেশ দুটি লাভ করে।
৩) শাহ আলমের সাথে চুক্তি:-
বক্সার যুদ্ধে পরাজিত হলে কোম্পানির দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম কে এলাহাবাদের দ্বিতীয় সন্ধি করতে বাধ্য করে। (1765খ্রি:)
1765 খ্রিস্টাব্দে এই সন্ধির মাধ্যমে কোম্পানি 'কারা' ও 'এলাবাদ' প্রদেশ দুটি এবং বার্ষিক 26 লক্ষ টাকা সম্রাটকে দেওয়ার বিনিময়ে সম্রাট কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী অর্থাৎ রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানী বিচারের অধিকার দেয়।
•এইভাবে কোম্পানি একাধিক চুক্তির মধ্য দিয়ে 1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভ করে।
• দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব -
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাসে দেওয়ানি লাভের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। যার মূলত দু'টি দিক লক্ষণীয়। যথা-
(ক) রাজনৈতিক গুরুত্ব। (খ) অর্থনৈতিক গুরুত্ব।
রাজনৈতিক গুরুত্বঃ-
১) বিরোধের অবসান-
1765 খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের ফলে কোম্পানি বাংলার নবাব কে হাতের পুতুলে পরিণত করে। তার ফলে ক্ষমতাধীন নবাবের সাথে কোম্পানির সমস্ত বিরোধের অবসান ঘটে।
2) আইনগত বৈধতা-
দেওয়ানি লাভের মধ্য দিয়েই কোম্পানির ক্ষমতা আইনগত বৈধতা পায়। ফলে কম্পানি এদেশে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ-
১) অর্থসংকট - দেওয়ানি লাভ করেই কোম্পানির কর্মচারীরা বাংলায় মানুষদের কাছ থেকে জোর করে অর্থনৈতিক লুণ্ঠন শুরু করে। ফলে বাংলায় অর্থসংকট দেখা যায়।
২) সম্পদের নির্গমন-
দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানি ভারতে পণ্য কেনার জন্য ইংল্যান্ড থেকে অর্থ পাঠানো বন্ধ করে। বাংলা রাজস্বেই পণ্য কেনা শুরু হয়, যার মধ্য দিয়ে সম্পদের নির্গমনের উদ্ভব হয়।
•অর্থাৎ,দেওয়ানি লাভ এদেশে কোম্পানিকে অর্থ-রাজনীতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন