উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস
প্রথম অধ্যায়ঃ অতীত স্মরণ
৮ নম্বর এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন
পৌরাণিক কাহিনী বা মিথ (Myth) বলতে কী বোঝো ? অতীত বিষয়ে মানুষের ধারণাকে মিথ বা পৌরাণিক কাহিনী কিভাবে সাহায্য করে?
অথবা
পৌরাণিক কাহিনী বা মিথ কি? অতীত স্মরণে পৌরাণিক কাহিনীর গুরুত্ব আলোচনা করো। (4+4=8 নাম্বার)
অতীত স্মরণে যে সমস্ত জনশ্রুতি গুলি অতীতের ধারণাকে আমাদের জানতে সাহায্য করে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো পৌরাণিক কাহিনী বা মীথ। মূলত প্রাগৈতিহাসিক যুগের অলৌকিক কাহিনীর ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এই পৌরাণিক কাহিনী। অর্থাৎ প্রাগৈতিহাসিক যুগের বা পুরাকালের বিভিন্ন গল্প কাহিনী লিখিত ও মৌখিক আকারে যুগের পর যুগ মানুষের অতীতের ইতিহাস জানতে সহায়ক হয়, তা-ই হল পৌরাণিক কাহিনী।
• জে. এফ. রিয়ারলেইন তার "Parallel myths"গ্রন্থে বলেন-
"পৌরাণিক কাহিনী হলো আমাদের অবচেতন মনের কাহিনী বিশেষ, যা সম্ভবত আমাদের জিন-এ লিপিবদ্ধ থাকে।"
উদাহরণ- হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী প্রজাপতি ব্রহ্মার মানস কন্যা হলেন দেবী দুর্গা অসুর নিধনের জন্য ব্রহ্মা একে সৃষ্টি করেন।
বৈশিষ্ট্য:- পুরাকাহিনি সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এর কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যথা-
(i) প্রাগৈতিহাসিক বিবরণ:- পৌরাণিক কাহিনীতে মূলত প্রাগৈতিহাসিক যুগের অর্থাৎ মানব সভ্যতা সৃষ্টির পূর্বের ঘটনার বিবরণ থাকে।
(ii) বিশ্বজনীনতা- বিশ্বের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- দেবদেবীর সৃষ্টিগত ধারণা, মহাপ্লাবন গত বর্ণনা, বিশ্ব সৃষ্টিগত ধারণা।
(iii) মৌখিক বিবরণ:- পৌরাণিক কাহিনী গুলি মূলত মৌখিক আকারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে চলে যা পরবর্তীকালে লিখিত রূপ ধারণ করে।
• অতীত বিষয়ে পৌরাণিক কাহিনীর গুরুত্ব-
পৌরাণিক কাহিনী গুলি কাল্পনিক মৌখিক প্রকৃতির হলেও অতীত বিষয়ে ভূমিকা কে অস্বীকার করা যায় না।
১) অতীতের ইতিহাস জানা-
পৌরাণিক বা অতীতের ইতিহাস জানতে সাহায্য করে। অতীতের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও মানুষের সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল তা জানার একমাত্র মাধ্যম হল পৌরাণিক কাহিনী। প্রত্নতত্ত্ববিদ জর্জ লরেন্সগোম বলেছেন-
"পৌরাণিক কাহিনী হল- বিজ্ঞানপূর্ব যুগের বিজ্ঞান।"
২) ঐতিহাসিক উপাদানের সূত্র
পৌরাণিক কাহিনী গুলি ঐতিহাসিক উপাদানের সূত্র হিসেবে সহায়ক। যেমন- প্রাচীন গ্রিসের পৌরাণিক কাহিনীর সূত্র ধরেই আধুনিক গ্রিসের ট্রয় নগরীর ও ট্রয়ের যুদ্ধেক্ষেত্রের অবস্থান জানা যায়।
৩) কাল নির্ণয়-
বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনা দ্বারা আমরা ইতিহাসের অনেক ভালো কাল নির্ণয় করে থাকি।
যেমন - ভারতের রামায়ণ ও হোমার রচিত ইলিয়াড ও ওডিসি তুলনামূলক আলোচনা করলে উভয়ের কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
৪) বংশ পরিচয়-
পৌরাণিক কাহিনী গুলি দ্বারা বিভিন্ন রাজবংশের বংশ পরিচয় জানা যায়। যেমন- প্রাচীনকালে ভারতের বিভিন্ন পুরাণে প্রাচীন রাজবংশের নাম এবং সেই বংশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, যা অতীত পুনর্গঠনে আমাদের সাহায্য করে।
৫) ধারাবাহিকতা রক্ষা-
পৌরাণিক কাহিনী গুলি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাহায্য করে। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে প্রাচীন মানব সংস্কৃতির বিভিন্ন তথ্য যুগের পর যুগ পেরিয়ে বর্তমানেও প্রচলিত রয়েছে। প্রাচীন সেই মানব সংস্কৃতি থেকে আধুনিক সংস্কৃতির মধ্যে ধারাবাহিক মূল বন্ধন বজায় রাখে।
•∆ তাই বলা যায় অতীত বিষয়ে মানুষের ধারণাকে পুরাকাহিনি ইতিবাচক রূপদান করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন- জাদুঘর বলতে কী বোঝো? অতীত স্মরণে জাদুঘরের ভূমিকা?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন