Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো।(নব্যবেদান্ত বাদ)

















মাধ্যমিক ইতিহাস 

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা 

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন




প্রশ্ন, স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো। (নব্যবেদান্ত বাদ)

উত্তর:-

ভূমিকা:-

"জীবে প্রেম করে যেইজন,

সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।"

স্বামী বিবেকানন্দের মতে , “ মানবসেবাই ধর্মের সর্বোচ্চ লক্ষ্য" । ধর্মচিন্তা কে ঈশ্বর সাধনার মধ্যে না রেখে মানব কল্যাণের কাজে প্রয়োগ করে ধর্ম সংস্কারের অভিমুখেকে যিনি বদলে দেন তিনি হলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের অন্যতম প্রিয় শীর্ষ স্বামী বিবেকানন্দ।


স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম সংস্কারঃ-


১) নব্য বেদান্ত বাদের প্রচারকঃ- বিবেকানন্দের ধর্মীয় সংস্কারের চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক ছিল নব্য বেদান্ত বাদ। বিবেকানন্দ প্রাচীন অদ্বৈত দর্শনের নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। জনগণের কল্যাণে তিনি বেদাস্তকে সম্পূর্ণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন যা নব্য বেদান্ত বাদ নামে পরিচিত। তার নব্য বেদান্তের অভিমুখ ছিল জগতের কল্যাণেই নিজের মোক্ষলাভ।


২) জীবসেবা ও মানবতাবাদের আদর্শঃ- 

স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম দর্শনে জীবসেবার ও মানবতাবাদের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে। জাত পাতের ভেদাভেদ এর সম্পূর্ণ বিরোধী স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল শুধুমাত্র জীবসেবা ও মানবতাবাদ এর আদর্শ। এই উদ্দেশ্যে বিবেকানন্দ নিজে গোটা বিশ্ববাসীর কাছে তার একটি মাত্র বাণী প্রচার করেছিলেন- 

"জীবে প্রেম করে যেইজন,

 সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।।" 


৩) রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠাঃ- ১৮৯৭ সালের ৫ মে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই মিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তার ধর্ম সংস্কারের আদর্শ সকলের কাছে ব্যক্ত করা এবং সকল মানুষের তথা জাতির ত্রাণকার্য থেকে শুরু করে - শিক্ষার প্রসার, সুচিকিৎসার প্রসার এবং প্রকৃত মানুষ গড়ে তোলার জন্য তিনি এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।


৪) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়ঃ- বিবেকানন্দ নব ভারত গঠনের উদ্দেশ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, প্রাচীন ও আধুনিক জীবনাদর্শ সংমিশ্রণে এক নতুন ভারতবর্ষ গরতে চেয়ে ছিলেন।


৫) বিশ্ব ভাতৃত্বের আদর্শ প্রচারকঃ- 

১৮৯৩ সালের শিকাগোতে ধর্ম সম্মেলনে ভারতের আধ্যাত্বিক সনাতন স্বরূপ তিনি বিশ্ববাসীর সম্মুখে তুলে ধরেন। বেদান্তের নতুন ব্যাখ্যা এবং তার সহায়ক উপাদান রূপে কর্মযোগের প্রচার করে বিশ্ববাসীকে অমৃতযোগের সন্ধান তিনি দিয়েছেন।


৬) দরিদ্র সেবাঃ- ভারতের সুদীর্ঘ পথ পরিভ্রমণ করে বিবেকানন্দ দরিদ্র , অজ্ঞ , ভারতবাসীর মধ্যে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি তার ধর্মের মাধ্যমে জীবের মধ্যে তিনি শিবকে অনুভব করেছিলেন এবং বলেছিলেন , “ যত্র জীব তত্র শিব । ” 


৭) মানুষ গড়ার ধর্মঃ- স্বামীজির কাছে ধর্ম’ কেবলমাত্র আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানাদির সমষ্টিমাত্র নয়, ‘ধর্ম’ তার কাছে মানুষ গড়ার হাতিয়ার। যে ধর্ম মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, সেই ধর্মকে তিনি গ্রহণ করেননি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভেদহীন সনাতন মানবধর্মের জয়গান তিনি গেয়েছেন।


মূল্যায়নঃ- বিবেকানন্দের “Man making religion’ এবং নব্য বেদান্তবাদ’-এর আদর্শ মানুষের মনের জমিকে করেছে উর্বর। তার ভাবাদর্শে বিশ্ববাসী হয়েছে স্নাত। পরাধীন দেশবাসীকে তিনি দিয়েছেন নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। ঋষি অরবিন্দের পরি- ভাষায়—“বিবেকানন্দই আমাদের জাতীয় জীবনের গঠনকর্তা।”

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here