মাধ্যমিক ইতিহাস
দশম শ্রেণি
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সংস্কার: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা।
গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন
প্রশ্ন,
ডেভিড হেয়ার স্মরণীয় কেন?
অথবা, পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ারের ভূমিকা লেখ?
উত্তর:-
ভূমিকা- পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে এদেশীয় নাগরিক রাজা রামমোহন রায় যেমন অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন, ঠিক সেরকমই ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে যে কয়েকজন ইউরোপীয়-এর কাছে ভারতবাসীকে চিরকৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ থাকতে হয় তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডেভিড হেয়ার। ভারতের ইতিহাসে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন ডেভিড হেয়ার। বেসরকারি উদ্যোগে পাশ্চাত্য শিক্ষা এদেশে প্রচারে তিনি নিরলস ভূমিকা পালন করেছেন।
•শিক্ষা প্রসারে অবদান:-
উনবিংশ শতকে এদেশে বিশেষ করে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারে ডেভিড হেয়ারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপকভাবে উদ্যোগী ছিলেন। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান গুলি হল নিম্নরূপ-
১) হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা:- ডেভিড হেয়ার পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হাইড ইস্ট , রামমোহন ও রাধাকাস্তের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ জানুয়ারি কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই হিন্দু কলেজটি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।
২) ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠাঃ- হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত করার পর ডেভিড হেয়ার থেমে থাকেনি। তিনি ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল-বিনা পয়সায় প্রয়োজনীয় পাঠ্য বই প্রকাশ করে গরীব দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিতরণ করা।
৩) হেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠাঃ- এদেশে প্রাশ্চাত্য ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা প্রসারের জন্য ডেভিড হেয়ার নিজে উদ্যোগ নিয়ে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে 'হেয়ার স্কুল' নামে পরিচিত।
৪) নারী শিক্ষাঃ-ডেভিড হেয়ার প্রথম থেকে নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তিনি মনে করতেন সমাজের পুরুষদের যেমন অধিকার ঠিক সেরকম নারীদের অধিকার রয়েছে। সেই অনুযায়ী তিনি নারীদের শিক্ষা প্রসারের জন্য প্রচুর আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি কলকাতায় কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তিনি চার্চ মিশনারি সোসাইটি পরিচালিত স্কুল গুলির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৫) কলকাতা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠাঃ-কলকাতা শহরতলি এলাকায় অবস্থিত বহু পুরনো স্কুলগুলির উন্নয়ন ও বিভিন্ন জায়গায় নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের 'কলকাতা স্কুল সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন।
৬) মেডিকেল কলেজঃ- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১লা জুন কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডেভিড হেয়ার সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। এই মেডিকেল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ডা: এম জে ব্রামলি-র মৃত্যুর পর ডেভিড হেয়ার নিজে মেডিকেল কলেজের সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। তিনি এই কলেজে সকল মেডিকেলের ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তির জন্য উৎসাহ দেন।
উপসংহারঃ-পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে ডেভিড হেয়ারের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। উপরের আলোচনায় একথা স্পষ্ট আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর অসামান্য উদ্যোগ বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। যে কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ইংরেজি তথা 'পাশ্চাত্য শিক্ষার জনক' রূপে ডেভিড হেয়ার আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন