মাধ্যমিক ইতিহাস
দশম শ্রেণি
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ সংস্কার, বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা।
প্রশ্ন ,
বাংলায় নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বিটনের ( বেথুন ) উদ্যোগ সম্পর্কে লেখো ।
অথবা , নারীশিক্ষা প্রসারে বেথুন সাহেবের অবদান কী ছিল ?
ভারতে নারী শিক্ষা বিস্তারে যেসমস্ত বিদেশি ব্যাক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ও অগ্রগণ্য হল 'কাউন্সিল অফ এডুকেশন' এর সভাপতি- ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন।
১৮৪৮ সালের এপ্রিল মাসে বড়োলাটের আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে ভারতে আসেন বিটন বা বেথুন সাহেব । মাত্র তিন বছরে এদেশে অবস্থান করে (১৮৪৮-১৮৫১) নারী শিক্ষায় এদেশে অভূতপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
তিনি বিদেশি হলেও ভারতীয়দের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন । তার এই মানসিকতার জন্য তিনি শ্বেতাঙ্গ সমাজের বিরাগভাজন হন ।
নারী শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান গুলি ছিল:-
১) স্ত্রী শিক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ- বিটন ভারতে এসে কাউন্সিল অফ এডুকেশন এর সভাপতিত্বে নিযুক্ত হন। এই পদে থাকাকালীন সময়ে নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি চিন্তাভাবনা করেন এবং এই নারী শিক্ষা বিষয়টির ওপর প্রচুর গুরুত্ব দেন। যার ফলে এই নারী শিক্ষা বিষয়টি তুঙ্গে ওঠে এবং নারী শিক্ষার প্রসার ঘটে।
২) শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা- তিনি বাংলার পাশাপাশি এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে জোর দেন । এজন্য ১৮৪৯ সালে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । পরে একটি মহিলা কলেজও স্থাপন করেন । এখন এটি বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজ রূপে পরিচিত ।
৩) বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা:- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে ৭ই মে প্রখ্যাত কয়েকজন ভারতীয়দের সহায়তায় ২১ জন ছাত্রীকে নিয়ে বিটন প্রতিষ্ঠা করেন নেটিভ ফিমেল স্কুল। যা পরবর্তীকালে 'বেথুন স্কুল' নামে পরিচিত। এটি ছিল ভারতের প্রথম মহিলা বিদ্যালয়।
৪) স্ত্রী শিক্ষায় জনমত গঠন:- নারী শিক্ষায় বিটনের কৃতিত্ব শুধুমাত্র বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠা মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি নারী শিক্ষার উদ্দেশ্যে বহু নারী, মহিলা জনমত গঠনে ব্যাপকভাবে উদ্যোগী হন। এই জন্য তিনি স্ত্রী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে একটি সংস্করণ ছেপে প্রকাশ করেন।
৫) ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার আদর্শ:- বেথুন স্কুলের প্রতিষ্ঠার আগে বহু খ্রিস্টান মিশনারীরা শিক্ষা প্রচারের নামে তাদের খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতেন। যে কারণে অন্যান্য ধর্মালম্বীরা শিক্ষা গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করতেন। সে রূপ যাতে কোনরকম বিষয় না ঘটে সেজন্য তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার আদর্শ পথকে বেছে নিয়েছিলেন এবং বেথুন স্কুল কে তিনি কখনোই মিশনারীদের পথে পরিচালিত হতে দেননি।
মূল্যায়ন- নারী শিক্ষায় বিটনের অবদানের কথা মূল্যায়ন করতে গিয়ে একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে- বিটনের আগে পর্যন্ত ভারতে কোন নারী শিক্ষার বিদ্যালয় তৈরি হয়ে ওঠেনি। বিটনই সর্বপ্রথম নারী শিক্ষায় উদ্যোগী হয়ে সরকারি কোনরকম সহায়তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বেথুন স্কুল তৈরি করেন। তিনি সরকারের শিক্ষা সচিব হিসেবে নারী শিক্ষার প্রতি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। যে কারনে আজও ভারতের ইতিহাসে বিটনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন