অতীত স্মরণ
দ্বাদশ শ্রেণী :- ইতিহাস বড় প্রশ্ন
প্রশ্ন,
অতীত স্মরণের ক্ষেত্রে কিংবদন্তি ও স্মৃতি কথার ভূমিকা আলোচনা করো ?
মৌখিক ইতিহাসের একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে কিংবদন্তির কাহিনী কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশ্চাত্য জগতে প্রচলিত লেজেন্ডকে বাংলায় কিংবদন্তি বলা হয়। কিংবদন্তি কাহিনীগুলিতে যেসব ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয় সেসব চরিত্র জীবন্ত ছিল বলে লোকসমাজ বিশ্বাস করে থাকে। অতীত কাল থেকে লোকসমাজের প্রচলিত কিংবদন্তি কাহিনীগুলিতে সামান্য পরিমাণে হলেও অতুতের বহু ঐতিহাসিক তথ্য ও সূত্র থাকে।
কিংবদন্তির উদাহরণ :- কিছু উল্লেখযোগ্য কিংবদন্তি হল- শ্রীকৃষ্ণ, শ্রী রামচন্দ্র, হারকিউলিস, গোপাল ভাঁড়।
পাশ্চাত্য প্রবক্তাগণরা সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে কিংবদন্তি বা 'legend' শব্দটি ব্যবহার করেন। কোন ঘটনার গুরুত্ব বোঝানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই শব্দটি ব্যবহার করেন বলে মনে করা হয়।
অতীত স্মরণের ক্ষেত্রে কিংবদন্তির ভূমিকা :-
১) ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র: - বিভিন্ন কিংবদন্তির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব হয়। উদাহরণ হিসেবে - সীতারকোট, বেহুলার বাসরঘর।
২) ঐতিহাসিক ভিত্তি :- কিংবদন্তীর কাহিনী রূপকথার কাহিনীর মত সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়। বহু ক্ষেত্রে কিংবদন্তির কাহিনীগুলির বাস্তব ভিত্তি আছে। বাংলার কিংবদন্তি চরিত্র হাতের কালীপুজোর ভিত্তিতে আজ একটি কালী মন্দিরকে চিহ্নিত করা হয়।
৩) আনন্দদান করা:- কিংবদন্তির ঘটনাগুলি অতীতকাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে লোকসমাজকে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে। কিংবদন্তিতে আনন্দদায়ক উপাদান আছে বলেই এগুলি বংশ পরম্পরায় বর্তমান কালে এসে পৌঁছেছে। সেই সূত্রে কিংবদন্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র বর্তমানে আমরা জানতে পারি।
৪) শিক্ষাদান:- বর্তমান কালের মানুষকে কিংবদন্তির ঘটনাগুলি অতীতের নৈতিকতা, বিরক্ত প্রভৃতি বিষয় তথ্য সরবরাহ করে। এগুলি থেকে বর্তমান কালের মানুষ নৈতিকতার শিক্ষা লাভ করতে পারে এবং জীবনে চলার পথে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারে।
স্মৃতিকথা:- ইতিহাসের একটি অন্যতম মৌখিক উপাদান হলো স্মৃতিকথা। অতীতের কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে অনেক তথ্য কোন মানুষের কাছ থেকে থাকতে পারে, যিনি সেই ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী। সেই ঘটনা অতীতে হয়ে গেলেও ঘটনার বিবরণটি সেই ব্যক্তির স্মৃতিতে থেকে যায়। সেই ঘটনাগুলিই স্মৃতিকথা নামে পরিচিত।
অতীত স্মরণে স্মৃতিকথার ভূমিকা:-
১) ঐতিহাসিক রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বঃ-
বিভিন্ন স্মৃতিকথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মূল্যবান উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। 1971 খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর পাকিস্তান বাহিনী পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের উপর পাক সামরিক বাহিনীর নিশংস অত্যাচার ও হত্যালীলা চালিয়েছিল। তার উত্তর গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান হলো স্মৃতিকথা গুলি। কেননা পাক সামরিক বাহিনী তখন পূর্ব বাংলার সমস্ত সংবাদ মাধ্যম গোটা বিশ্ব থেকে আড়াল করেছিল।
২) গুনীজনের বিবরণঃ- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটি কথাগুলি গুনী ব্যক্তিরা রচনা করেন। কলে তাতে অবান্তর পক্ষপাতমূলক ও অতিরঞ্জিত ঘটনার প্রবেশ রাস্তায় এবং এগুলি থেকে অতীতের বিভিন্ন বাস্তব ঘটনা তথ্য ও বিবরণ পাওয়া যায়। 1946 খ্রিস্টাব্দে কলকাতার দাঙ্গার ঘটনাবলি বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিকথায় পাওয়া যায়।
৩) প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণঃ- বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনার বিবরণ তাদের স্মৃতিকথাগুলিতে আলোচনা করেন। ফলে উক্ত বিবরণে ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতা অনেক বেশি থাকে।
৪) বক্তা বা লেখকের নিজস্ব অনুভূতি:- বক্তা বা লেখক তার স্মৃতি কথাই যে কাহিনী বা ঘটনার বিবরণ দেন তা ঘটনার সমসাময়িককালে তার মনে কিরূপ প্রভাব ফেলেছিল তিনি কি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন সেই ঘটনার সমসাময়িক পরিস্থিতি কিভাবে পাল্টে যেতে দেখেছেন তা তার স্মৃতিকথায় আলোচনা হয়ে উঠে আসে।
আরো পড়ুন:- ২০২৩ উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস ছোট প্রশ্ন সাজেশন - CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন