প্রশ্ন, ভারতের ইতিহাসে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব কি ছিল?
১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে রাওলাট আইন জারি হলে ভারতবাসী এই আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় চরম পরিণতি ছিল জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। এই কুখ্যাত আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ উদ্যানে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আহূত হয়। কোনরূপ প্ররোচনা ছাড়াই জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্বে ব্রিটিশের ঘাতক পুলিশ বাহিনী গুলি চালিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। ইতিহাসে এই কুখ্যাত ঘটনাটি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড (১৩ই এপ্রিল, ১৯১৯)নামে পরিচিত।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বঃ-
১) কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সমগ্র দেশের মানুষ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
২) পরোক্ষভাবে এই হত্যাকান্ড ভারতের জাতীয় দাবীর প্রতি পৃথিবীর জনমতের সমর্থন আদায় করতে সাহায্য করেছিল। ল্যান্সবেরী প্রকাশ্য সভায় এই কাজকে "ইংরেজ জাতির লজ্জা" বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
৩) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি ঘৃণাভরে ত্যাগ করে।
৪) এই বেদনাদায়ক ঘটনা বৃটেনের সাধারণ মানুষের আবেগকে ভারতীয়দের প্রতি আকৃষ্ট করার কাজেও সাহায্য করেছিল।
৫) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, " জালিয়ানওয়ালাবাগ সমগ্র ভারতে এক মহাযুদ্ধের আগুন জেলে দিয়েছে।"
৬) এই বর্বর রচিত হত্যাকাণ্ড ও এর পরবর্তী কার্যকলাপের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসক কুলের নগ্ন ও প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটিত হয়েছিল।
৭) এই হত্যাকাণ্ড প্রতি ভারতবাসীকে তীব্র ইংরেজ বিদ্বেষী করে তুলেছিল যার প্রভাব পড়েছিল অসহযোগ আন্দোলনে।
৮) এম. কে. গান্ধী বলেন - "জনতাকে সত্যাগ্রহের প্রকৃত আদর্শে শিক্ষিত না করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া বিপদজনক।"
আরো পড়ুন -মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইনের ধারা গুলি বর্ণনা করো CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন