![]() |
| Madhyamik History |
সূচনা:-
1873 খ্রীষ্টাব্দে ফৌজদারি আইনে বলা হয় যে কোন আদালতের ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারবে না। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন বিচারব্যবস্থার এই বৈষম্য দূর করার জন্য তার আইন সদস্যকে একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরির নির্দেশ দেন 1880 খ্রিস্টাব্দে এই সংক্রান্ত যে বিল তৈরি করেন 'ইলবার্ট বিল' নামে পরিচিত।
বিতর্ক:-
এই বিলকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইউরোপীয়রা এই আইন মানতে রাজি ছিলেন না কারণ ভারতীয়দের কাছে বিচার প্রার্থী হতে তাদের আত্মাভিমানে আঘাত লাগতো। অন্যদিকে ভারতীয়রা ছিল এই বিলের পক্ষে কারণেই এর দ্বারা বিচারব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা সম্ভব যা ভারতবাসীর কাছে মঙ্গলদায়ক ছিল।
আন্দোলন:-
এই বিলের বিরুদ্ধে ইংরেজরা 'ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের প্রত্যুত্তরে প্রতি আন্দোলন গড়ে তোলে ভারত সভা কিন্তু পরিস্থিতির চাপে সরকার ইলবার্ট বিল এর কিছু সংশোধনী আনে যার মাধ্যমে ইউরোপীয়রা জয়যুক্ত হয়েছিল। কারণ এই সংশোধনীতে বলা হয়েছিল যে ইউরোপীয়দের বিচার করতে গেলে কোন ভারতীয় বিচারককে জুরি আদালতের সাহায্য নিতে হবে এবং সেইজুরি আদালতে একজন ইউরোপীয় থাকা আবশ্যক।
গুরুত্ব:-
ইলবার্ট বিল ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ যথা:-
1. এই বিল আন্দোলন থেকে ভারতীয়রা সঙ্গবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
2. ব্রিটিশরা যে তাদের সামান্য স্বার্থেও ছাড়তে রাজি নয় তা ভারতীয়রা বুঝতে পারে।
3. ব্রিটিশদের সংঘবদ্ধতার বিষয়টিও ভারতীয়রা বুঝতে পারে।
4. এই আন্দোলনের ফলেই ভারতীয়দের ও ব্রিটিশদের মধ্যে জাতীয় বৈরতা বৃদ্ধি পায়।
5. ভারতে জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়।
6. ইলবার্ট বিল আন্দোলন জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার ভিত রচনা করতে কিছুটা সমর্থ হয়।
মূল্যায়ন:-
ইলবার্ট বিল এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন যে বিলটিকে কেন্দ্র করে ভারতীয়দের আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা ভারতীয়রা ব্রিটিশদের প্রকৃত চেহারা চিনতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন