প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, আমি এই ব্লগের মাধ্যমে তোমাদেরকে 2019 মাধ্যমিকে আসতে পারেন একটি চার নম্বরের প্রশ্নের উত্তর আলোচনা করলাম। এটি তোমাদের সপ্তম অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নটি হলো:-
Q. দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী ও আম্বেদকর-এর মধ্যে মতপার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
সূচনা:-
'দলিত' কথাটি এসেছে 'দলন' শব্দ থেকে। যার অর্থ দমিয়ে রাখা। সমাজের উচ্চ বর্ণের মানুষ নিম্নবর্গের যেসব মানুষদের দমিয়ে বা পদদলিত করে রাখে তাদের দলিত বলা হয়। ডঃ বি আর আম্বেদকর ছিলেনএকজন দলিত নেতা। মহাত্মা গান্ধী দলিতদের পক্ষে আন্দোলন করলেও দলিতদের অধিকার বিষয়ে গান্ধী ও আম্বেদকর এর মধ্যে মতপার্থক্য বা বিতর্ক ছিলই।
মতপার্থক্য:-
দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী আম্বেদকর এর মধ্যে মতপার্থক্যের দিক গুলি হল:-
1. দৃষ্টিভঙ্গিগত:- মহাত্মা গান্ধী মানবতাবাদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দলিত সমস্যাকে বিবেচনা করেন এবং সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন। 1920 সালে অসহযোগ আন্দোলনকালে তিনি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন
কিন্তু কয়েক বছর পর আম্বেদকর অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের পাশাপাশি দলিতদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী ছিলেন।
2.পদ্ধতিগত:- আম্বেদকর অস্পৃশ্যদের স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইলেও গান্ধীজি তা চাননি বরং সমাজ থেকে তিনি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের চেষ্টা করেছিলেন।
3. বর্ণাশ্রম সম্পর্কিত:-
আম্বেদকর বর্ণ ব্যবস্থা বিলোপের পক্ষপাতী ছিলেন কিন্তু গান্ধীজি বর্ণাশ্রম ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে বর্ণ গুলির মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেন।
4. রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত:-আম্বেদকর দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি করেছিলেন সে জন্য 1932 সালে সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে মহাত্মা গান্ধী পৃথক নির্বাচনের বিরোধী ছিলেন যে কারণে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির বিরুদ্ধে তিনি অনশন শুরু করেন এবং শেষপর্যন্ত গান্ধীজির দাবি মেনে নিতে তাকে বাধ্য করা হয়।
মূল্যায়ন:- দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী আম্বেদকর বিরোধের সম্পূর্ণ মীমাংসা হয়নি।1932 এর পুনা চুক্তির মাধ্যমে পৃথক নির্বাচনের বিষয়টি বাতিল হয়েছিল এবং তারই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনসভা দলিতদের 18 শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও দলিতদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। ফলে গান্ধী-আম্বেদকর বিরোধ পরবর্তীতেও রয়েই গেছে।
Q. দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী ও আম্বেদকর-এর মধ্যে মতপার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
সূচনা:-
'দলিত' কথাটি এসেছে 'দলন' শব্দ থেকে। যার অর্থ দমিয়ে রাখা। সমাজের উচ্চ বর্ণের মানুষ নিম্নবর্গের যেসব মানুষদের দমিয়ে বা পদদলিত করে রাখে তাদের দলিত বলা হয়। ডঃ বি আর আম্বেদকর ছিলেনএকজন দলিত নেতা। মহাত্মা গান্ধী দলিতদের পক্ষে আন্দোলন করলেও দলিতদের অধিকার বিষয়ে গান্ধী ও আম্বেদকর এর মধ্যে মতপার্থক্য বা বিতর্ক ছিলই।
মতপার্থক্য:-
দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী আম্বেদকর এর মধ্যে মতপার্থক্যের দিক গুলি হল:-
1. দৃষ্টিভঙ্গিগত:- মহাত্মা গান্ধী মানবতাবাদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দলিত সমস্যাকে বিবেচনা করেন এবং সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন। 1920 সালে অসহযোগ আন্দোলনকালে তিনি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন
কিন্তু কয়েক বছর পর আম্বেদকর অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের পাশাপাশি দলিতদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী ছিলেন।
2.পদ্ধতিগত:- আম্বেদকর অস্পৃশ্যদের স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইলেও গান্ধীজি তা চাননি বরং সমাজ থেকে তিনি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের চেষ্টা করেছিলেন।
3. বর্ণাশ্রম সম্পর্কিত:-
আম্বেদকর বর্ণ ব্যবস্থা বিলোপের পক্ষপাতী ছিলেন কিন্তু গান্ধীজি বর্ণাশ্রম ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে বর্ণ গুলির মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের ওপর গুরুত্ব দেন।
4. রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত:-আম্বেদকর দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি করেছিলেন সে জন্য 1932 সালে সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে মহাত্মা গান্ধী পৃথক নির্বাচনের বিরোধী ছিলেন যে কারণে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির বিরুদ্ধে তিনি অনশন শুরু করেন এবং শেষপর্যন্ত গান্ধীজির দাবি মেনে নিতে তাকে বাধ্য করা হয়।
মূল্যায়ন:- দলিত অধিকার বিষয়ে গান্ধী আম্বেদকর বিরোধের সম্পূর্ণ মীমাংসা হয়নি।1932 এর পুনা চুক্তির মাধ্যমে পৃথক নির্বাচনের বিষয়টি বাতিল হয়েছিল এবং তারই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনসভা দলিতদের 18 শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও দলিতদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। ফলে গান্ধী-আম্বেদকর বিরোধ পরবর্তীতেও রয়েই গেছে।

Thank u so much sir😃
উত্তরমুছুন