প্রশ্ন:- নব্য বঙ্গীয় আন্দোলনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আলোচনা কর।
A. ইতিবাচক দিক:-
1. ধর্মীয় সংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও কঠোর সমালোচনা রক্ষণশীল হিন্দু সমাজকে যথেষ্ট নাড়া দিয়েছিল। এদের আন্দোলন বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ধর্মের সংস্কারের আবশ্যকতা কতখানি।
2. জাতীয়তা বোধ ও স্বদেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনের কাজেও নব্যবঙ্গীয়দের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
3. নারী জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষার প্রসার ছিল এদের অন্যতম কর্মসূচি ছিল। এই কারণে কেউ কেউ আবার এদের মধ্যে দেখেছেন 1900 শতকের নবজাগরণের উষালগ্ন।
4. এদের উদ্যোগে প্রকাশিত জ্ঞানান্বেষণ, দা এনকোয়ারার, বেঙ্গল স্পেক্টেটর প্রভৃতি পত্র-পত্রিকা দেশবাসীর মনে যুক্তিবাদ বিস্তারে ও কুসংস্কারমুক্ত মানসিকতা গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
B. নেতিবাচক দিক:-
1. বৃহত্তর সমাজকে নিজেদের চিন্তায় প্রভাবিত করার মতো কর্মসূচি ডিরোজিয়ানদের ছিলনা, এদের অতিরিক্ত উচ্ছাস হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সঞ্চার করে। ফলে সমাজের প্রগতিশীল বা রক্ষনশীল কোন অংশই এদের আচরণ মেনে নিতে পারেনি।
2. নব্যবঙ্গ দলের ক্রিয়া-কলাপ কয়েকজন ইংরেজি শিক্ষিত শহুরে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ঘরের ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।
3. হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুভবুদ্ধির জাগ্রত করার কোনো চেষ্টা না করে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সব কিছু না জেনেই তার বিরোধিতা করা হলে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায় নব্যবঙ্গীয় দের বিরুদ্ধে চলে যায়।
4. মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই আন্দোলনের কোন সম্পর্ক ছিল না, ফলে সমাজের একটা বৃহৎ অংশই এই আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নেয়।
মূল্যায়ন:- নব্য বঙ্গীয় দিয়ে নেতৃত্বে গড়ে তোলা আন্দোলনে বেশকিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও জাতির জীবনে তাদের গুরুত্বকে কখনোই অস্বীকার করা চলে না। এ প্রসঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন "এরাই বাংলা আধুনিক সভ্যতার প্রবর্তক। এরাই আমাদের জাতির পিতা, এদের গুণাবলী চিরস্মরণীয়।"
![]() |
| Madhyamik History suggestion |
সূচনা:- ঊনিশ শতকে ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তার যুক্তিবাদী মননশীলতা ও উদার মনোভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার কিছু যুবক সম্প্রদায় যে সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলে তা নব্য বঙ্গীয় আন্দোলন নামে পরিচিত। ডিরোজিওর অনুগামীদের বলা হয় ডিরোজিয়ান্স বা নব্যবঙ্গীয়। এই নব্য বঙ্গীয় আন্দোলনের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে, নিম্নে তা আলোচনা করা হল:
A. ইতিবাচক দিক:-
1. ধর্মীয় সংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও কঠোর সমালোচনা রক্ষণশীল হিন্দু সমাজকে যথেষ্ট নাড়া দিয়েছিল। এদের আন্দোলন বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ধর্মের সংস্কারের আবশ্যকতা কতখানি।
2. জাতীয়তা বোধ ও স্বদেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনের কাজেও নব্যবঙ্গীয়দের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
3. নারী জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষার প্রসার ছিল এদের অন্যতম কর্মসূচি ছিল। এই কারণে কেউ কেউ আবার এদের মধ্যে দেখেছেন 1900 শতকের নবজাগরণের উষালগ্ন।
4. এদের উদ্যোগে প্রকাশিত জ্ঞানান্বেষণ, দা এনকোয়ারার, বেঙ্গল স্পেক্টেটর প্রভৃতি পত্র-পত্রিকা দেশবাসীর মনে যুক্তিবাদ বিস্তারে ও কুসংস্কারমুক্ত মানসিকতা গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
B. নেতিবাচক দিক:-
1. বৃহত্তর সমাজকে নিজেদের চিন্তায় প্রভাবিত করার মতো কর্মসূচি ডিরোজিয়ানদের ছিলনা, এদের অতিরিক্ত উচ্ছাস হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সঞ্চার করে। ফলে সমাজের প্রগতিশীল বা রক্ষনশীল কোন অংশই এদের আচরণ মেনে নিতে পারেনি।
2. নব্যবঙ্গ দলের ক্রিয়া-কলাপ কয়েকজন ইংরেজি শিক্ষিত শহুরে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ঘরের ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।
3. হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুভবুদ্ধির জাগ্রত করার কোনো চেষ্টা না করে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সব কিছু না জেনেই তার বিরোধিতা করা হলে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায় নব্যবঙ্গীয় দের বিরুদ্ধে চলে যায়।
4. মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই আন্দোলনের কোন সম্পর্ক ছিল না, ফলে সমাজের একটা বৃহৎ অংশই এই আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নেয়।
মূল্যায়ন:- নব্য বঙ্গীয় দিয়ে নেতৃত্বে গড়ে তোলা আন্দোলনে বেশকিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকলেও জাতির জীবনে তাদের গুরুত্বকে কখনোই অস্বীকার করা চলে না। এ প্রসঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন "এরাই বাংলা আধুনিক সভ্যতার প্রবর্তক। এরাই আমাদের জাতির পিতা, এদের গুণাবলী চিরস্মরণীয়।"

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন