Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

মাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর || সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা


মাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় 2 

নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর 
 
সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা

Madhyamik History Suggestions






১. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের ‘প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?

উঃ- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সরকার ‘এনফিল্ড রাইফেল’ নামে এক বন্দুকের প্রচলন করে। এর কার্তুজ বা টোটা একটি মোড়কের মধ্যে ভরা থাকত। মোড়কটি আবার দাঁতে কেটে বন্দুকে ভরতে হত। সেনাদের মধ্যে গুজব ছড়ায় যে মোড়কটিতে গোরু ও শূকরের চর্বি মেশানো রয়েছে। ধর্মনাশের ভয়ে হিন্দু ও মুসলমান সেনারা কার্তুজটি ব্যবহার করতে অসম্মত হয়। মঙ্গল পান্ডে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করলে অচিরেই সমগ্র দেশে বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।।

২. মঙ্গল পান্ডে কেন স্মরণীয়?

উঃ- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন ব্যারাকপুর সেনা ছাউনির ৩৪ নং নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির একজন সিপাহি। তিনিই প্রথম গোরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত এনফিল্ড রাইফেলের টোটার মোড়ক দাঁতে কাটতে অস্বীকার করেন। এর বিরুদ্ধে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ তিনি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অতঃপর তাকে গ্রেপ্তার করা হলে বিদ্রোহের আগুন অন্যান্য ছাউনিতে ছড়িয়ে পড়ে। ৮ এপ্রিল বিচারে তার ফাঁসি হয়। তিনিই ছিলেন সিপাহি বিদ্রোহের প্রথম নায়ক’ ও শহিদ।

৩. রানি লক্ষ্মীবাঈ কেন বিখ্যাত ছিলেন ?

উঃ- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে যে সকল নেতা-নেত্রী বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিজলোপ নীতি’ দ্বারা কঁসি গ্রাস করলে তিনি অত্যন্ত সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, ‘মেরী কঁসি নেহি দুঙ্গী’। পুরুষের বেশে যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি অসম সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দেন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুন ‘কোটা-কি-সরাই’যুদ্ধে এই বীরাঙ্গনা নিহত হন।

৪. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কী পরিচয় পাওয়া যায়?

উঃ- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের ক্ষেত্রে মিশ্র রূপ লক্ষ্য করা যায়। (a) হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে, (b) উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের প্রচেষ্টায় আন্দোলন গণবিদ্রোহে পরিণত হয়, (c) অনেক জায়গায় সম্প্রীতির নিদর্শন স্বরূ প গো-হত্যাও বন্ধ হয়, (d) আবার মুসলমানরা রাজপুতদের বহুগ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে অসহিষ্ণুতার পরিচয় দান করে।

৫. কে, কেন ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম' বলে অভিহিত করেছেন?

উঃ- বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকর। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন।
 স্বপক্ষে যুক্তি : তিনি বলেন যে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে এত ব্যাপক ইংরেজ-বিরোধী আন্দোলন আর হয়নি। এই কারণে তিনি একে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলেছেন।
অধ্যাপক সুশোভন সরকার, অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখও এই অভিমত সমর্থন করেন।

৬. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ বলার দুটি কারণ লেখো।

উঃ- ইংরেজ ঐতিহাসিক চার্লস রেক, জন লরেন্স, কে ম্যালেসন, জন সিলি এবং বিশিষ্ট ভারতীয় স্যার সৈয়দ আহমেদ খান, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, অক্ষয়কুমার দত্ত, দাদাভাই নওরোজি, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে সিপাহি বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন।
পক্ষে যুক্তি :
(a) তারা বলেন, সিপাহিরাই প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে, (b) বিদ্রোহের পরে তারা বেশি শাস্তি লাভ করে, (c) তারাই সেনাছাউনি থেকে জনগণের মধ্যে বিদ্রোহকে ছড়িয়ে দেয়, (d) তারাই সরকারি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করে। তাই তাঁরা একে ‘সিপাহি বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেন।

৭. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘মহাবিদ্রোহ’ বলাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল?

উঃ- ঐতিহাসিকরা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘সিপাহি বিদ্রোহ’, সামন্তশ্রেণির বিদ্রোহ’, ‘কৃষক বিদ্রোহ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করলেও তা যথার্থ নয়। শুধু ধর্মীয় কারণ বা এনফিল্ড রাইফেলের টোটার ব্যবহারের জন্যএই বিদ্রোহ হয়নি। এই বিদ্রোহ ছিল মানুষের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন কারণে ভারতের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাব, সর্বভারতীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘মহা অভ্যুত্থান’ বা ‘মহাবিদ্রোহ’ বলাই সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল।

৮.১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত ও অভিজাত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনোভাব কী ছিল?

উঃ- সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সমগ্র শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের বিরোধিতা করেন। এমনকি বিদ্রোহ দমনে সরকারকে সাহায্যের প্রস্তাবও দেন।
বিরোধিতার কারণ : (a) তাঁরা ব্রিটিশ শাসনকে ভারতের পক্ষে কল্যাণকর মনে করতেন (b) ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর কেউ ভারতে জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। করতে পারবে কিনা তাতে তাঁরা ছিলেন সন্দিহান, (c) ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলে নিজেদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হবেন এই ভয়ে তারা ছিলেন ভীত। তাই তারা বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি, বরং বিদ্রোহীদের প্রাথমিক সাফল্যে ছিলেন আতঙ্কিত।

৯.কোথায় প্রকৃত’ সিপাহি বিদ্রোহ ঘটেছিল ?

উঃ- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে মিরাটে সিপাহি বিদ্রোহ বা মহাবিদ্রোহের ‘প্রকৃত’ সূচনা ঘটে। এখানকার সেনাছাউনিতে ৯০ জন সিপাহি চর্বি মাখানো কার্তুজ ব্যবহারে অসম্মত হলে ৮৫ জন সিপাহিকে পদচ্যুত করা হয়। ১০ জন সিপাহিকে ১০ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিদ্রোহিরা সেনা অফিসারদের হত্যা করে বন্দিদের কারামুক্ত করে। এর ফলে বিদ্রোহ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

১০.. ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইলে’ কী বলা হয় ?
উঃ- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস হয়।
মহারানির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর : ভারতের মতো এক সুবিশাল দেশেরশাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে রাখা ঠিক নয় ভেবে এই আইনের দ্বারা ইংল্যান্ডের মহারানি নিজের হাতেই ভারতের শাসনভার তুলে নেন। ঠিক হয় মহারানির প্রতিনিধি বা ভাইসরয়-এর দ্বারা ভারতের শাসনকার্য পরিচালিত হবে। লর্ড ক্যানিং ছিলেন ভারতের প্রথম ভাইসরয়।


১১.১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের কয়েকজন নেতা ও নেত্রীর নাম লেখো।

উঃ- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের সূত্রপাত সিপাহিরা করলেও বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর পরিচালনায় বিভিন্ন অঞলে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। দিল্লিতে নেতৃত্ব দেন ‘হিন্দুস্থানের সম্রাট’ ও শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ, কানপুরে নেতৃত্ব দেন নানাসাহেব ও তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর তাতিয়া তোপি, লখনউতে নেতৃত্ব দেন বেগম হজরতমহল, আঁসিতে নেতৃত্ব দেন রানি লক্ষ্মীবাঈ, ফৈজাবাদে নেতৃত্ব দেন মৌলবি আহম্মদউল্লাহ, বিহারে নেতৃত্ব দেন রাজপুত বীর কুনওয়ার সিং প্রমুখ।

১২ দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ কে ছিলেন? তিনি কোথায় নির্বাসিত হন ?

উঃ- মোগল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ। সিপাহিরা ৩ মে তাঁকে ‘হিন্দুস্থানের সম্রাট’ ঘোষণা করে। দিল্লিতে তিনি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। দিল্লির পতনের পর তিনি রেঙ্গনে নির্বাসিত হন। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।










কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here