Click Below

Breaking

Know more

Search

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা বিবরণ দাও।




















 একাদশ শ্রেণীর ইতিহাস

 দ্বিতীয় অধ্যায় : আদিম মানব থেকে প্রাচীন সভ্যতা সমূহ

৮ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর



প্রশ্ন,

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা বিবরণ দাও?

উত্তর,

সিন্ধু সভ্যতা বা হরপ্পা সভ্যতা মূলত একটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল। এই সভ্যতার নগর সম্পর্কে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া কালিবঙ্গান, লোথাল, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা প্রভৃতি নগর গুলির ধ্বংসাবশেষ থেকে এই সভ্যতার নগর শৈলীর ধারণা পাওয়া যায়। 

হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা :-

হরপ্পা নাগর সম্পর্কে বা নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে, যে প্রধান বিষয় গুলি উল্লেখযোগ্য সেগুলি হল নিম্নরূপ-

১)ঘরবাড়ি - হরপ্পা নগরীর ঘরবাড়িগুলো ছিলো খুবই সুন্দর ও তখনকার দিনে খুবই উন্নত মানের। মূলত দুই ধরনের ইট দিয়ে ঘরবাড়ি গুলি তৈরি করা হতো। পোড়ামাটির তৈরি ইট এবং রোদে শুকানো ইট। ঘরবাড়ি গুলি মূলত ছিল ছোট ছোট কামরা বিশিষ্ট এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিকরা মনে করেন, হরপ্পা নগরীতে একতলা-দোতলা ও তিন তলা বাড়ির অস্তিত্ব ছিল। প্রতিটি বাড়িতেই শোবার ঘর ,রান্নাঘর এবং স্নানাগার ছিল। প্রতিটি গৃহের কক্ষে ছোট বড় আকৃতির জানালা ও দরজা ছিল বলে মনে করা হয়।

২) রাস্তাঘাট:-রাস্তাগুলি পূর্ব থেকে পশ্চিম ও উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে সমান্তরালভাবে বিস্তৃত ছিল। ৯ থেকে ৩৪ ফুট পর্যন্ত চওড়া রাস্তাগুলি ছিল পাথর ও পোরা ইট দিয়ে তৈরি। রাস্তা গুলো ছিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। রাস্তার দু'ধারে ছিল জল নিকাশির জন্য ড্রেন যা রাস্তার সঙ্গেই যুক্ত ছিল। এই ড্রেন গুলি মূলত ঢাকনা দেওয়া ছিল।

৩)ম্নানাগার:- সর্বসাধারণের ব্যবহারযােগ্য এক বিশাল বাঁধানাে স্নানাগারের অস্তিত্ব মিলেছে। এর আয়তন দৈর্ঘ্যে ১৮০ ফুট ও প্রস্থ ১০৮ ফুট। স্নানাগারটির চারিদিকে রয়েছে ৮ ফুট উঁচু ইটের দেওয়াল। এছাড়াও বেশিরভাগ বাড়িতেই স্নানাগার ছিল এবং সেই স্নানাগার গুলিতে জল নিকাশি ব্যবস্থা করা ছিল ।

৪) নির্মাণশৈলী:- হরপ্পার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা সবকিছুতেই ছিল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ছাপ ও নগরের বেশিরভাগ স্থান ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন,যা আধুনিক নগরের সঙ্গে তুলনীয়। হরপ্পা নগরটির দুটি অংশ ছিল একটি পশ্চিমের উঁচু দুর্গাঞ্চল, অপরটি পূর্বের নিম্নাঞ্চল। দুর্গাঞ্চলে শাসক শ্রেণির লােকেরা বসবাস করত। আর নিম্নাঞ্চলে সাধারণ শ্রেণির মানুষ বসবাস করত। দুর্গ এলাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকত।

৫) শস্যাগার :-হরপ্পার নগর পরিকল্পনায় বাড়িঘর ,স্নানাগার ,রাস্তাঘাট এর সাথে সাথে আরেকটি বিশেষ জিনিসের উপস্থিতি ছিল সেটি ছিল শস্যাগার। যা মূলত সেই সময়ের প্রতিটি কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের বাড়িতে থাকতো। এইসব শস্যগার গুলি আকৃতিতে বেশ বড় হতো, কৃষকরা এইসব শস্যাগার গুলিতে তাদের শস্য মজুত রাখতো। এছাড়াও হরপ্পা নগরের একটি বিশাল আকৃতির শস্যাগার ছিল।হরপ্পার শস্যাগারটি রাভি নদীর প্রাচীন খাতের কাছে অবস্থিত ছিল।

 ৬)পয়ঃপ্রণালী:-হরপ্পা সভ্যতার পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত আধুনিক। জলনিকাশের জন্য রাস্তার নীচে দিয়ে পাথরের ঢাকনা দেওয়া নর্দমা থাকত। নর্দমাগুলি পরিষ্কার করার জন্য ইটের তৈরি ঢাকা ম্যানহােলের ব্যবস্থা ছিল। বড়াে নদমার সঙ্গে যুক্ত ছােটো নর্দমা দিয়ে প্রতিটি বাড়ির নােংরা জল বের করা হত।

৭) পৌর ব্যবস্থা :-এই হরপ্পা নগরে সেই সময়ে পৌর শাসন বর্তমান ছিল। তখনকার সময়ে একজন মূলত পৌর প্রধান হিসেবে ছিলেন, তার আদেশ অনুসারে মূলত নগরের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে নাগরিকরা বসবাস করত।নগরগুলির দেখাশােনার দায়িত্ব পালন করত পৌর প্রতিষ্ঠান। পৌর শাসনব্যবস্থার মান ছিল উন্নত। অধ্যাপক সরসীকুমার সরস্বতী বলেছেন, “এখানে একই প্রকৃতির শক্তিশালী ও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা ছিল যা জনগণের জীবনযাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করত৷”

উপসংহার:- সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা আধুনিক যুগের মতােই উন্নত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল। সুষ্ঠু নাগরিক পরিকল্পনা নগরবাসীকে সুখস্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাত্রা উপহার দিয়েছিল। প্রাচীন যুগের এমন উন্নত নগর পরিকল্পনা ছিল মূলত বিরল দৃষ্টান্ত। 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here