Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

প্রাচীন প্রস্তর যুগ এবং নব্য প্রস্তর যুগের জীবনযাত্রা প্রণালী ও হাতিয়ারের পার্থক্য?


















প্রশ্ন:- 

প্রাচীন প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগ  মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী এবং হাতিয়ার এর পার্থক্য লেখ।

সূচনা : - নব্য প্রস্তর যুগের আগে পর্যন্ত মানুষ খাদ্য উৎপাদন করতে জানতো না। তাই মানুষ বিভিন্ন হাতিয়ার এর সহায়তায় তারা বন্য পশু শিকার করত এবং বনের ফলমূল, পাখির ডিম ,নদীর মাছ প্রভৃতি সংগ্রহ করত।

               প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষ ছিল শুধুমাত্র খাদ্য সংগ্রাহক। পুরুষ ও নারী উভয়েই খাদ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত থাকতো এবং দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ ধীরে ধীরে খাদ্য সংগ্রাহক থেকে স্থায়ী বসবাসকারীতে পরিণত হয়। এই পর্যায়ে মানুষের মধ্যে এক আমুল পরিবর্তনের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।


আদিম মানুষ ঃ খাদ্য সংগ্রাহক থেকে স্থায়ী বসবাসকারী রুপে পরিবর্তন হওয়ার পার্থক্য।


1) হাতিয়ার - হোমো স্যপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষের আবির্ভাবের আগে অর্থাৎ, প্রাচীন প্রস্তর যুগে অনুন্নত মানুষ শুধুমাত্র পাথর ও লাঠি ছাড়া বেশি কোনো হাতিয়ারের ব্যবহার জানত না।

                      পরবর্তীকালে অর্থাৎ, নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ পাথরের বিভিন্ন হাতিয়ার তৈরি করতে শেখে। যুগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতিয়ারগুলো উন্নত মনের হতে থাকে।


2) পশুশিকার - প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষ পশু শিকারে দক্ষ ছিল না।

                       কিন্তু, নব্য প্রস্তর যুগের পুরুষেরা পশু শিকার করত। তারা পাথর ও হাড়ের তৈরি অস্ত্র দিয়ে পশু শিকার করে, পশুর মাংস খেতো এবং পশুর সেই হাড় দিয়েই পুনরায় হাতিয়ার নির্মাণ করতো।                                                         



 প্রাচীন প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগের      মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালীর পার্থক্য

•প্রাচীন প্রস্তর যুগ:-

• হাতিয়ার গুলি ছিল অনুন্নত এবং অল্প কয়েক রকমের। যেমন- হাতকুঠার, চাঁচনি।

• মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রহক। গাছের ফল মূল সংগ্রহ এবং পশু শিকার ছিল খাদ্যের প্রধান উৎস।

• প্রথমদিকে মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় পেয়ে এরপর তারা গুহায় আশ্রয় নেয়। পাশাপাশি তারা গাছের ডালপালা, পশুর হাড় দিয়ে আচ্ছাদন বানিয়ে বসবাস করতে লাগলো।

• প্রধানত পশুর চামড়া ও গাছের ছাল কে বস্ত্র হিসাবেও ব্যবহার করা হতো।

• খাদ্য সংগ্রাহক হিসেবে মানুষকে খাদ্য যোগান এর জন্য, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হতো।

• সমাজে স্পষ্ট কোনো শ্রমবিভাজন ছিল না।

•নব্য প্রস্তর যুগ:-

• এই যুগের হাতিয়ার গুলি ছিল ধারালো ও উন্নতমানের। যেমন- পাথরের কুঠার ,কাস্তে, নিড়ানি ,বড়শি ,বাটালি ও কুমোরের চাকা।

• মানুষ হয়ে উঠল খাদ্য উৎপাদক। চাষ ও পশুপালন হয়ে উঠল খাদ্যের প্রধান উৎস।

• নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধভাবে নদী বা জলাশয় এর পাশে বাসগৃহ নির্মাণ শুরু করে। তাদের বাসগৃহ ছিল মূলত তিন ধরনের। যথা - ১) চলো বসতি,২) হ্রদ বসতি ৩)গুহা বসতি।

• এ যুগে বয়ানে সূত্রপাত ঘটে। মানুষ পসম ও তুলার কাপড় বুনতে সেখে‌।

• চাষ ও পশু পালনের ফলে মানুষের জীবনে এলো খাদ্য নিরাপত্তা। এর ফলে জনসংখ্যা বাড়লো। মানুষ ক্রমশ স্থায়ীভাবে এক জায়গায় বসবাস করতে শুরু করল।

• এই যুগে কৃষির আবিষ্কার ও মৃৎশিল্পের বিকাশ প্রভৃতি কারণে সমাজে শ্রমবিভাজন তৈরি হলো। সমাজ আগের তুলনায় জটিল হয়ে পড়ল।

প্রাচীন ও নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার এর পার্থক্য:-

•প্রাচীন প্রস্তর যুগের হাতিয়ার:-

• এই যুগের হাতিয়ার ছিল অনুন্নত।

• এই যুগে এক ধরনের হাতিয়ার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম করা হত। হাতিয়ার এর সংখ্যা ও বৈচিত্র ছিল কম।

• এই যুগের হাতিয়ার মূলত ব্যবহার করা হতো আত্মরক্ষা ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য।

• চাকার কোন ধারণা এই যুগে ছিল না বললেই চলে।


•নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার:-

• হাতিয়ার গুলি ছিল আগের যুগের তুলনায় অনেক বেশি মাজা ঘষা ও ধারালো।

• এই যুগে প্রত্যেক কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের হাতিয়ার তৈরি হয়েছিল। তাই হাতিয়ারের সংখ্যা ও বৈচিত্র ছিল বেশি।

• এই যুগের শিকার ও আত্ম রক্ষার পাশাপাশি চাষের উপযোগী ও অন্যান্য দ্রব্য উৎপাদনের জন্য হাতিয়ার তৈরি হয়েছিল।

• এই যুগে চাকার ব্যবহার শুরু হয়।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here