Click Below

Breaking

Know more

Search

রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

চীনে চৌঠা মে আন্দোলনের কারণ আলোচনা করো || ৪ঠা মে আন্দোলন কেন সংঘটিত হয়েছিল?

 








প্রশ্ন,

চীনে চৌঠা মে আন্দোলনের কারণ আলোচনা করো ।

Or

 ৪ঠা মে আন্দোলন কেন সংঘটিত হয়েছিল?


সূচনা - প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে চীনের উপর দিয়ে বিদেশি আধিপত্য এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষণের অবসান ঘটানোর জন্য চীনের ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ ঠা- মে আন্দোলনের সূচনা। চীন তথা সমগ্র বিশ্বে এই আন্দোলন 'চৌঠা-মে' আন্দোলন নামে পরিচিত।


৪ঠা মে আন্দোলনের কারণ :- 

চৌঠা মে আন্দোলন হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ ছিল। এই কারণগুলি হল নিম্নরূপ-


১)'হিউয়ান-শি-কাই' এর একনায়কতন্ত্র:-

চিনা রাষ্ট্রপতি 'হিউয়ান-শি-কাই' চীনের সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চীনের সমস্ত সাংবিধানিক রীতিনীতি বাতিল করেন এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কাছে অপমানজনক শর্তে ঋণ নিতে রাজি হন। এছাড়াও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার তিনি কেড়ে নেন, কেউ তার বিরোধিতা করলে তিনি সেই বিরোধীদেরকে নিশংস ভাবে হত্যা করেন।

২) কুয়োমিনতাং দল নিষিদ্ধ:- 

প্রথমে গৃহযুদ্ধের ভয়ে 'সান-ইয়াৎ-সেন' চীনের রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন। কিন্তু, পরবর্তীতে 'হিউয়ান-শি-কাই' এর নৃশংস কার্যাবলী দেখে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে 'সান ইয়াৎ সেন' - কুয়োমিনতাং দলের সহায়তায় দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। ফলস্বরূপ পরিণতি হয় গৃহযুদ্ধ। কুয়োমিনতাং দল ও হিউয়ান বাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ দেখা দিলে হিউমান বাহিনী এই যুদ্ধে জয়ী হন এবং চীনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেন 'কুয়োমিনতাং' দলকে।

৩) জাপানের একুশ দফা দাবি:-

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে জার্মানি চীনের শান্টুং প্রদেশে দখল করে। তখন সেখানে জাপান গিয়ে জার্মানির সেনাকে হটিয়ে দিয়ে চীনের শান্টুং প্রদেশের নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে এবং তারা সমগ্র চীনকে নিজেদের উপনিবেশ হিসাবে দাবী করে। এরপর ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ১৮ই জানুয়ারি চীন সরকারের কাছে জাপান '২১- দফা দাবি' পেশ করল। ফলস্বরূপ গোটা দেশজুড়ে ২১ দফা দাবির প্রতিবাদ শুরু হলো।

৪) ২১- দফা দাবির প্রতিবাদ ও জাপানি পণ্য বয়কটের দাবি-

জাপানের ২১ দফা দাবি পেশ করার পর গোটা চীন জুড়ে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ শুরু হলো এবং জাপানি পণ্য বয়কটের দাবি করতে লাগল চিনা সাধারণ নাগরিক ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। এই রকম পরিস্থিতিতে জাপান বেশ চাপের মুখে পড়ে। তখন 'হিউয়ান-শি-কাই' ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে মার্চ এই আন্দোলন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন নিজের দেশের জনগণকে। যার ফলে চীনের জনগণ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন।


৫) ইউয়ানের গোপন চুক্তি- 'হিউয়ান-শি-কাই' জাপানের সাথে এক গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যে চুক্তি অনুযায়ী তিনি পুনরায় চীনের প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে রাজতন্ত্রের সূচনা করে নিজেই সমগ্র চীনের অধিকার কায়েম করতে চান এবং নিজে চীনের সম্রাট হতে চান। এতে 'হিউয়ান শি কাই' কে সমস্ত প্রকার সাহায্য জাপান। এই জন্যই তিনি তার দেশের জনগণকে জাপানের বিরুদ্ধে পণ্য বয়কট আন্দোলনের দাবি প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন।এসব ঘটনার বিরুদ্ধে চিনে তীব্র জনরােষের সৃষ্টি হয়।

৬) বিদেশি পণ্যের বাজার: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় চিনে চিনে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ যথেষ্ট পরিমাণে কমে যায়। কিন্তু যুদ্ধ শেষে জাপান-সহ অন্যান্য পুঁজিপতি দেশগুলি আবার চিনের অভ্যন্তরে বাজার দখলের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। ফলে চিনের সদ্যোজাত শিল্পগুলি তাদের সঙ্গে প্রতিযােগিতায় পিছিয়ে পড়ে এবং অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষ কারণ: চিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রপক্ষে যােগ দেয়। চিন আশা করেছিল যে, এর ফলে মিত্রপক্ষ যুদ্ধে জয়লাভ করলে বিদেশিদের কাছ থেকে চিন তার রাজ্যাংশগুলি ফেরত পাবে এবং বিদেশিদের সঙ্গে অসম চুক্তিগুলি বাতিল হবে। যুদ্ধাবসানের পর চিন প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) 'একুশ দফা দাবি'-সহ সব অসম চুক্তি এবং শান্টুং প্রদেশে জাপানি কর্তৃত্ব বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু ইউরােপীয় কর্তৃপক্ষ চিনের আবেদনে কর্ণপাত করেননি কারণ তাদের। মতে, চিনের দাবিগুলি ছিল 'আলােচনা বহির্ভূত' বিষয় ফলে চিনের প্রতিনিধিরা শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন।

উপসংহার: উপরােক্ত কারণ গুলির জন্য চিনের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চেন-তু-শিউর আহ্বানে হাজার হাজার ছাত্র ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ ঠা মে পিকিং- এর 'তিয়েন-আন-মেন স্কোয়ার'-এ জড়াে হয়ে বিদেশি শক্তির অপসারণ, বিভিন্ন অসম চুক্তি বাতিল, দেশদ্রোহীদের শাস্তি, জাপানি ২১ দফা দাবী ও পণ্য বয়কট প্রভৃতি দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিদ্রোহ শীঘ্রই দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here