Click Below

Breaking

Know more

Search

মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

উনিশ শতকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব প্রেক্ষাপট আলোচনা করো। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব এর তাৎপর্য লেখ।











 উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস 


চতুর্থ অধ্যায়ঃ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া।


৮ নাম্বারের গুরুত্বপূর্ণ বড়প্রশ্ন 





প্রশ্ন,                        (4+4=8 নাম্বার)

উনিশ শতকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব প্রেক্ষাপট আলোচনা করো। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব এর তাৎপর্য লেখ।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের যে সমস্ত শুভ দিক গুলো ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে ভারতবাসীরা লাভ করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইংরেজি শিক্ষা। উনিশ শতকের সূচনায় এদেশের ইংরেজি শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে। যার অন্যতম প্রভাব ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব।


মধ্যবিত্ত শ্রেণী- 

ব্রিটিশ শাসিত উনিশ শতকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত, আর্থিকভাবে মোটামুটি সচ্ছল অবস্থাসম্পন্ন যে শ্রেণীর বিকাশ ঘটে, তারাই "মধ্যবিত্ত শ্রেণী" নামে পরিচিত।



•বিভিন্ন মধ্যবর্তী শ্রেণি-

 ব্রিটিশ শাসিত ভারতে চাকুরীজীবী, বণিক, এজেন্ট, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক প্রভৃতি পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষরা মধ্যবিত্ত শ্রেণি নামে পরিচিত ছিল।


মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভবের প্রেক্ষাপট- 

উনিশ শতকে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার এবং বিভিন্ন পেশার উদ্ভব হলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। যেমন- 


১) সরকারি চাকরি- 1757 খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি দৃঢ় প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ব্রিটিশদের এই প্রশাসনে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মচারী প্রয়োগ করা হয়। ভারতীয়রা ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এখানে কাজের সুযোগ পায়। ফলে এ সমস্ত ভারতীয় দের আর্থিক বিকাশ ঘটে। এরা মধ্যবিত্ত শ্রেণী নামে পরিচিত হন।



2) আইনগত পেশা- ব্রিটিশ শাসিত ভারতে আইন ও বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। যেখানে মামলা মোকাদ্দমার সংখ্যাও প্রচুর বেড়ে যায়। তাই পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয় অত্যন্ত লাভজনক আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। যার মধ্য দিয়ে- আমলা, উকিল প্রভৃতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব হয়।


৩) বাণিজ্যের প্রভাব- ঔপনিবেশিক ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে শিক্ষিত ভারতীয়গণ যুক্ত হয়ে, ব্যবসা-বানিজ্যের কাজে নিযুক্ত হলে তারা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নামে পরিচিতি লাভ করে।



৪) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রভাব- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কৃষি ব্যবস্থা থেকে প্রচুর পরিমাণে কর আদায়ের জন্য চিরস্থায়ী, রায়তওয়ারি, মহলওয়ারি প্রভৃতি ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করে। যা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর উদ্ভব হয়। এরাই মধ্যবিত্ত নামে পরিচিত হয়।



মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভবে তাৎপর্য-

উনিশ শতকে যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে ভারতীয় জনজীবনে তার বিশেষ তাৎপর্য ছিল। যেমন-


১) পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার- মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি বিশেষ ঝোক ছিল। তারা পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নিলে, এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার সহজ হয়।


২) সামাজিক পরিবর্তন- মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিলেন আধুনিক মনোভাবসম্পন্ন। ফলে চিরাচরিত প্রথর পরিবর্তে এরা সমাজকে নতুনভাবে গড়তে উদ্যোগ নেয়। ফলে সামাজিক পরিবর্তন ঘটে।


৩) জাতীয়তাবাদী আন্দোলন- মধ্যবিত্ত শ্রেণি ব্রিটিশ শাসিত ভারতের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ফলে তারা দেশবাসীকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিকাশ ঘটান।


৪) সাহিত্যের প্রভাব- মধ্যবিত্ত শ্রেণি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবিত হয়ে দেশীয় সাহিত্য রচনায় নিযুক্ত হলে তাদের সাহিত্য আধুনিক ভাবধারা যুক্ত হয়। ফলে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, মধুসূদন দত্তের হাত ধরে এদেশে সাহিত্যে আধুনিকতা আসে।








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here