Click Below

Breaking

Know more

Search

সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সস্কারের পরিচয় দাও? এর প্রভাব গুলি লেখ?

উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস


দ্বাদশ শ্রেণি


৮ নাম্বারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন





প্রশ্ন,                          (4+4=8 নাম্বার)

 ইয়ং বেঙ্গল বা নব্য বঙ্গ গোষ্ঠীর সস্কারের পরিচয় দাও? এর প্রভাব গুলি লেখ?


উনিশ শতকের প্রথম পর্বে ভারতের নবজাগরণের প্রভাবে সংস্কার আন্দোলনের সূচনা ঘটে। রাজা রামমোহন রায়ের হাত ধরে যে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় তার তরুণ শিক্ষক ছিলেন ডিরোজিও। যার আদর্শে বিশ্বাসী বাংলার তরুণ সমাজ প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদী আন্দোলন শুরু করে, তা-ই 'নব্য বঙ্গ' আন্দোলন নামে পরিচিত।


(ক) বিভিন্ন সংস্কার-

ডিরোজিও তাঁর তরুণ অনুগামী দেশের প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়। যেমন-

ক) সতীদাহ প্রথা।

খ) মূর্তি পূজা।

গ) জাতিভেদ প্রথা।

ঘ) মেয়েদের শিক্ষা না দেওয়া।

ঙ) সামাজিক রক্ষণশীলতা- প্রভৃতির বিরুদ্ধে এরা আন্দোলন করেছিলেন।


(খ) ডিরোজিওর আদর্শ-

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ডিরোজিওর আদর্শ ছিল যে কোনো ঘটনা বা সামাজিক রীতিনীতি যুক্তি দিয়ে বিচার করে তবে গ্রহণ করা উচিত। তিনি তার ছাত্রদের বা অনুগামীদের অন্ধ কুসংস্কারের পরিবর্তে স্বাধীন চিন্তা ভাবনা দ্বারা সবকিছু গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন।


(গ) বিতর্ক সভা স্থাপন-

ডিরোজিও তার ছাত্রদলের মনে স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটানোর জন্য ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় মানিকতলায় "অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন" নামে একটি বিতর্ক সভা স্থাপন করেন। এই সভা জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতা, সতীদাহ প্রথা প্রভৃতির বিরোধিতা করে। এখানে ডিরোজিও ছাত্ররা প্রচলিত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাদের মতামত প্রকাশ করত।


(ঙ) পত্রিকা প্রকাশ -

ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী তাদের সামাজিক সংস্কারকে চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে তাকে সমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।তাই এই উদ্দেশ্যে তারা ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে, "পার্থেনন" নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। এতে তারা-

    1.নারী শিক্ষা 

    2নারী স্বাধীনতা 

    3.নারী স্বাধীনতা হল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা- প্রভৃতি বিষয়ে মতামত ব্যাক্ত করেন।


(চ) রক্ষনশীলতার বিরোধিতা-

মধ্যযুগীয় সমাজ ছিল রক্ষনশীলতার মোড়কে আবদ্ধ। যা ছিল সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা স্বরূপ।তাই ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীরা এই রক্ষণশীলতা দূর করার জন্য অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেন।

 যেমন-

1. নিষিদ্ধ মাংস খেতেন।

2. ব্রাহ্মণ,পুরোহিত দের লক্ষ্য করে বলতেন-

"আমরা গো মাংস খাই গো"।

3. পৈতে ছিঁড়ে ফেলতেন।

4.কালীঘাটের মা কালীর উদ্দেশ্যে বলতেন-

"গুড মর্নিং ম্যাডাম"।


• এইভাবে ডিরোজিও ও তাঁর অনুগামীগণ, প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।




*প্রভাব-

নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সংস্কার আন্দোলনের কিছু নেতিবাচক দিক ছিল, তা সত্বেও এদের আন্দোলনের প্রভাব কে অস্বীকার করা যায় না।


১) সামাজিক আলোড়ন-

নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর সংস্কার আন্দোলন হিন্দু সমাজে তীব্র আলোড়ন ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।


২) রক্ষণশীলতা দূর-

ডিরোজিওর যুক্তিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী তাঁর অনুগামী ও সমাজের একাংশ রক্ষনশীলতার বিরোধিতা শুরু করে। ফলে তাদের মনে প্রচলিত মধ্যযুগীয় রক্ষণশীল মানসিকতার দূর হয়। 


৩) নারী জাতির জাগরণ -

নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর নারীরা সমাজের প্রতি যথেষ্ট ইতিবাচক পদক্ষেপ নেন। যার প্রভাবে অনেক স্থানে নারীদের শিক্ষা দেওয়া তাদের বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত না করার ঘটনা ঘটে।

৪) সুদূরপ্রসারী প্রভাব-

ডিরোজিও তার অনুগামী দল অভিনব পদ্ধতিতে যে সংস্কার আন্দোলনের ঝড় তুলেছিলেন, সামাজিক দিক থেকে তার সুদুরপ্রসারি প্রভাব পড়ে।যেমন-

 সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উদ্দেশ্যে বলেন-

" তারা আমাদের জাতির পিতা তাদের গুণাবলী চিরস্মরণীয়"।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here