দ্বাদশ শ্রেণী
উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস
৮ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ বড়প্রশ্ন
প্রশ্ন,
দাক্ষিণাত্যের ইঙ্গ ফরাসি দ্বন্দ্বের কারণ কী ছিল? এই দ্বন্দ্বে ফরাসিরা কেন ব্যর্থ হয়েছিল? (4+4=8 নাম্বার)
ভূমিকা:- ১৪৯৮খ্রিস্টাব্দে ভাস্কোদাগামা জলপথে ভারতে আসার পর, জলপথের মাধ্যমে বিভিন্ন বিদেশি শক্তি, যেমন- ইংরেজ, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসিরা এই দেশে আসতে শুরু করে। এদের মধ্যে দুই প্রধান শক্তি ছিল-ফরাসি ও ইংরেজরা। দক্ষিণ ভারতে উভয় শক্তি তাদের প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করলে,তারা প্রায় দীর্ঘ দুই দশকের সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ে। যা "ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব" নামে পরিচিত। আবার একে কর্ণাটের যুদ্ধও বলা হয়।
ইঙ্গ ফরাসি দ্বন্দ্বের কারণ:-
একাধিক কারণে এদেশে ইংরেজ ও ফরাসিরা পারস্পারিক দ্বন্দ্বের জড়িয়ে পড়ে। যথা-
১) বাণিজ্যিক প্রাধান্য:- ভারতে আসার পর উভয় শক্তির মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক প্রাধান্য লাভ করা। এই উদ্দেশ্যে ইংরেজরা মাদ্রাজ এবং ফরাসিরা পন্ডিচেরিতে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করেন, ফলে পরস্পর বিরোধী এই দুই শক্তি নিজেদের ব্যবসায়িক প্রাধান্য সৃষ্টি করতে চাইলে তারা পারস্পরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে।
২) রাজনৈতিক প্রাধান্য:- বাণিজ্যিক প্রাধান্য লাভের পাশাপাশি একসময় ইঙ্গ-ফরাসি এই দুই শক্তি,রাজনৈতিক প্রাধান্য লাভেরও উদ্যোগ নেয়। উভয় শক্তি নিজেদের অনুকূলে দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় শাসকদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করলে রাজনৈতিকভাবে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
৩) ইউরোপের বিবাদ:- ইউরোপে ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষ পরস্পরের তীব্র বিরোধী ছিল। তাদের বিরোধিতার প্রভাব এ দেশেও বিস্তৃত হয়। ফলে ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষ, ইউরোপের বিবাদ ও শত্রুতার প্রভাবে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে এদেশে জড়িয়ে পড়ে।
৪) দেশীয় পরিস্থিতি:- সমকালীন দাক্ষিণাত্যের রাজনৈতিক অবস্থা ও দেশীয় রাজাদের দুর্বলতাও এই দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ছিল। দক্ষিণ ভারতের দেশীয় রাজারা নিজেদের দুর্বলতার জন্য ইংরেজ ও ফরাসিদের সাহায্য প্রার্থনা করলে এই দুই শক্তি নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
ফরাসিদের ব্যর্থতার কারণ:-
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত ফরাসিরা পরাজিত হয়। তাদের এই ব্যর্থতার পিছনে একাধিক কারণ ছিল--
১) ফরাসিদের দুর্বলতা:- বাণিজ্যিক দিক থেকে ইংরেজরা ফরাসিদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। বাংলায় তারা প্রাধান্য বিস্তার করলে বাংলা সম্পদের বলে বলিয়ান হয়। এই ধরনের সুযোগ ফরাসিদের ছিল না।
২) নৌ শক্তির অভাব:- বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌবহর ছিল ইংরেজদের।তারা এই নৌবহরের দ্বারা ভারতের সমুদ্র উপকূল নিয়ন্ত্রণ করতো।ফরাসিদের কোনো শক্তিশালী নৌবহর ছিলনা, ফলে নৌযুদ্ধে ফরাসিরা ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
৩) বাণিজ্যে অবহেলা:- এ দেশে আসার পর ইংরেজরা কখনোই তাদের বাণিজ্যকে অবহেলা করেনি। অন্যদিকে ফরাসিরা ভারতে বাণিজ্যকে যথেষ্ট অবহেলা করে এবং বাণিজ্যে ব্যর্থ হয়ে রাজনীতিতে অংশ নেয়। ফলে তাদের আর্থিক শক্তি ছিল দুর্বল।
৪) ফরাসি সেনাপতি দের দুর্বলতা:-
ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে যে সমস্ত ফরাসি সেনাপতি অংশ নেয় তারা সামরিক দিক থেকে ছিল দুর্বল। যেমন-ডুপ্লে কূটনীতিতে দক্ষ হলেও যুদ্ধ বিদ্যা সম্পর্কে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ। অন্যদিকে, ইংরেজ সেনাপতিরা অত্যন্ত দক্ষ সেনাপতি ছিলেন। যাদের সঙ্গে ফরাসিদের পেরে ওঠা সম্ভব হয়নি।
• উক্ত কারণ গুলির জন্য এই দেশে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিরা ব্যর্থ হয়েছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন