Click Below

Breaking

Know more

Search

সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১

ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে বিবরণ দাও?










দ্বাদশ শ্রেণি


উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস


৮ নাম্বারের গুরুত্বপূর্ণ বড়প্রশ্ন








প্রশ্ন,

ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে বিবরণ দাও?

ভূমিকা- ভারতে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষা সংস্কৃতি বিষয়ে বিশেষ প্রশ্ন দেখা দেয়। তা হল ইংরেজরা এ দেশের শিক্ষা বিস্তারে কোন ধরনের নীতি গ্রহণ করবে? তারা তাদের পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারতীয়দের ওপর চাপিয়ে দেবে! নাকি, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?



১) দেশের প্রচলিত শিক্ষা-

ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হিন্দু ছাত্ররা পাঠশালায় এবং মুসলিম ছাত্ররা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। যার মাধ্যম ছিল সংস্কৃত ও ফরাসি বিষয় বস্তু। এর সাথেই ছিল সাধারণ কিছু জ্ঞান ও ধর্মীয় উপাখ্যান।


২) সরকারি মনোভাব-

কোম্পানি শাসকেরা প্রাথমিক পর্বে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। তাদের মনে হয়েছিল এই শিক্ষা পেলে ভারতীয়দের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগবে এবং এদেশে তাদের শাসনের অবসান ঘটবে। তাই প্রাচ্য শিক্ষায় উৎসাহ দিতে তারা প্রতিষ্ঠা করে-

ক) কলকাতা মাদ্রাসা (১৭৮১)

খ) এশিয়াটিক সোসাইটি (১৭৮৪)

গ) বারানসি সংস্কৃত কলেজ (১৭৯২)


৩) প্রাশ্চাত্য শিক্ষার পরিবেশ-

কিছুদিনের মধ্যে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ইংরেজদের আইন-আদালত, প্রশাসন প্রভৃতিতে কাজের জন্য ইংরেজি জানা ও শেখাটা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

৪) মিশনারিদের ভূমিকা-

এদেশে প্রাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের জন্য খ্রিস্টান মিশনারীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তারা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেমন-'ম্যাস ম্যান' , ওয়ার্ড ও উইলিয়াম কেরি ১৮০০ খ্রি: প্রতিষ্ঠা করে একটি মিশন (শ্রীরামপুরে)। এছাড়া এদের উদ্যোগে বর্ধমান, কালনা, মালদা ও দক্ষিণ ভারতের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়।


৫) অন্যান্য মিশনারীদের ভূমিকা-শ্রীরামপুরের মিশনারি ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি মিশনারি গোষ্ঠীদের উন্নয়নে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। যেমন-

ক) আলেকজান্ডার ডাফ প্রতিষ্ঠা করে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন। (১৮৩০)

খ) শিবপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ব কলেজ। (১৮২০)

গ) বোম্বাই প্রতিষ্ঠিত হয় উইলসন কলেজ।(১৮৩২)


৬) ডেভিড হেয়ার ও রামমোহনের ভূমিকা-

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কিছু হিতবাদী ব্যক্তিদের উদ্যোগেও বিভিন্ন পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে যার ফলে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে। যেমন-

ক) রামমোহনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় অ্যাংলো হিন্দু কলেজ।(১৮১৫)

খ) ডেভিড হেয়ার উদ্যোগে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দু কলেজ।

গ) ডেভিড হেয়ার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন- পটলডাঙ্গা একাডেমি, কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটি।


৭) মেকলের ভূমিকা:-

উইলিয়াম বেন্টিং এর আইন সচিব 'মেকলে' প্রাচ্য শিক্ষার পরিবর্তে পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি এদেশের মানুষজনকে পাশ্চাত্য শিক্ষার গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য বোঝান। ফলে এ দেশে প্রাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার আরো সহজ হয় যার প্রভাবে উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন-

ক) কলকাতা মেডিকেল কলেজ (১৮৩৫- খ্রি:)

খ) সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ (১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দ)


৮) উডের ডেসপ্যাচ-

বোর্ড অফ কন্ট্রোল সভাপতি- চার্লস উড ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের জন্য এক প্রতিবেদন পেশ করে। যা "উডের ডেসপ্যাচ" নামে পরিচিত। যার উপর ভিত্তি করে এদেশে আধুনিক শিক্ষার প্রসার হয় । যার ফলে কলকাতা, মুম্বাই, মাদ্রাজ এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।(১৮৫৭ খ্রি:)

• এইভাবে ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here