Click Below

Breaking

Know more

Search

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩

একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান || রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে "বিজ্ঞান" বলার সাপেক্ষে যুক্তি দাও?




 একাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞান**


প্রথম অধ্যায়ঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান: সংজ্ঞা, বিবর্তন ও বিষয়বস্তু**


প্রশ্ন,

রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে "বিজ্ঞান" বলার সাপেক্ষে যুক্তি দাও?


উঃ ফ্রেডারিকের মতে, যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলতে অনিচ্ছুক তারা বিজ্ঞান বলতে কী বোঝায় তা জানেন না। বস্তুত বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও স্বরূপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিজ্ঞান পদবাচ্য কিনা এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর সহজেই দেওয়া সম্ভব। বিজ্ঞান হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কতগুলি সমস্যা সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান। এ প্রসঙ্গে রবসনের উক্তিটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন, যেকোনো সুসঙ্গবদ্ধ অথবা শিক্ষাদানযোগ্য জ্ঞান কে যদি বিজ্ঞান বলা হয়, তবে সেই অর্থে রাষ্ট্রবিজ্ঞানও একটি বিজ্ঞান। যেসব রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে বিজ্ঞান বলার পক্ষপাতী, তারা তাদের বক্তব্যের সমর্থনে সাধারণ যুক্তিগুলি প্রদর্শন- 


ক) সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান অর্জন সম্ভব:- অন্যান্য বিজ্ঞানের মত রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা, শ্রেণি বিভক্তিকরণ প্রভৃতি পদ্ধতির সাহায্যে রাষ্ট্রের উৎপত্তি, প্রকৃতি ও নাগরিকদের আচার-আচরণ প্রভৃতি সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।


খ) সাধারণ সূত্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্ভব:- এই সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান থেকে কতগুলি সাধারণ নিয়ম বা সূত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সেই নিয়ম বা সূত্রগুলি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হতে পারে। তাছাড়া মানুষের রাজনৈতিক আচরণের মধ্যেও সুসংঘবদ্ধ শৃঙ্খলা দেখা যায়। লর্ড ব্রাইস বলেছেন, বিজ্ঞানের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য গুলি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আছে বলেই তাকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা চলে।


গ) বিকাশের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বর্তমান:- যারা বিকাশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে ধারাবাহিকতা নেই বলে মনে করেন, তারা সমাজবিজ্ঞানের এই শাখাটির স্বরূপ যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ জন্ম লগ্ন থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান এক একটি স্তর অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে।


ঘ) তত্ত্ব ও তথ্যের উপর সমান গুরুত্ব আরোপ:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান তথ্য অপেক্ষা তত্ত্বের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব আরোপ করে বলে যাদের অভিযোগ, তারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেকি বা সনাতন রূপটি প্রত্যক্ষ করেই এরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে মনে হয়। কারণ, মার্কস এঙ্গেলস কেবল তত্ত্ব নয়, সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সমাজ বিকাশের ধারাটিকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।


ঙ) মূল্যমান নিরপেক্ষ বাস্তব আলোচনা সম্ভব:- সম্প্রতি কালের আচরণবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, গণিত ও পরিসংখ্যানে প্রয়োগ প্রভৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পূর্ণ মূল্যমান নিরপেক্ষ ও বাস্তব আলোচনা সম্ভব বলে মনে করেন। সমাজ বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এর পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের ওপর এইসব রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।


আরো পড়ুন:- একাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞান || দ্বিতীয় অধ্যায়|| রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে সামাজিক চুক্তি মতবাদটি আলোচনা কর? CLICK HERE


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here