প্রশ্ন, দেওয়ানি লাভের পরবর্তী অধ্যায়ে ব্রিটিশরা কিভাবে রাজ্য জয় করল?
উঃ ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানী লাভের সময়কাল থেকে মহাবিদ্রোহের সময়কাল পর্যন্ত ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একদিকে যুদ্ধের মাধ্যমে রাজ্য জয় ও প্রভুত্ব বিস্তার করেছিল এবং অন্যদিকে কিছু কূটনৈতিক নীতি অবলম্বন করেছিল।
যুদ্ধের মাধ্যমে রাজ্য জয়:- অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের মহীশূর, মারাঠা ও শিখ শক্তি অন্যতম শক্তিরুপে কাজ করেছে। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে মহীশূর ও ইংরেজদের মধ্যে ধাপে ধাপে যুদ্ধের পর ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ ইঙ্গো মহীশূর যুদ্ধে জয় লাভের পর মহীশূর রাজ্য জয় করতে ইংরেজরা সক্ষম হয়। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্র ব্রিটিশ হস্তগত হয়। ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে অমৃতসরের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ইঙ্গ শিখ যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ইঙ্গ শিখ যুদ্ধে জয়লাভের পর লর্ড ডালহৌসি পাঞ্জাব অধিকার করেন।
• কূটনৈতিক নীতি অবলম্বনে দ্বারা রাজ্য জয়:-
ক) অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি:- ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে কোম্পানির নীতির নির্ধারকরা যেসব কূটনীতির সাহায্য নিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো লর্ড ওয়েলেসলির দ্বারা প্রবর্তিত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি। এই নীতির মূল বক্তব্য গুলি ছিল-
১|ইংরেজদের সঙ্গে মিত্রতাকারী রাজ্যগুলি ইংরেজ নিয়ন্ত্রিত ও অনুগত থাকবে।
২| মিত্র রাজ্যে নিরাপত্তার জন্য ইংরেজ সরকার দায়ী থাকবে এবং মিত্র রাজ্যের খরচে ওই সকল রাজ্যে ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন করা হবে।
৩| ব্রিটিশদের অনুমতি ছাড়া ওই রাজ্য অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে মিত্রতা করতে পারবেন না।
এই নীতির ফলে ব্রিটিশ সরকার একে একে হায়দ্রাবাদের নিজাম, তাঞ্জোর, সুরাট প্রভৃতি জয় করেন।
খ) স্বর্তবিলোপ নীতি:- লর্ড ডালহৌসি ছিলেন ঘোরতর সাম্রাজ্যবাদী। তিনি তার সাম্রাজ্যবাদী নিতিকে বাস্তব রূপ দিতে স্বর্তবিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন। এই নীতিতে বলা হয়েছে-
১|ইংরেজ আশ্রিত বা অনুগ্রহীত কোনো দেশীয় রাজার অপুত্রক অবস্থায় মৃত্যু হলে তাঁর রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভুক্ত হবে।
২| দত্তপুত্র গ্রহণ আইন বাতিল হয়। কিভাবে ইংরেজরা সাঁতারা, ঝাঁসি, সম্বলপুর ও উদয়পুর গ্রাস করে।
আরো পড়ুন:- অতীতের সংরক্ষক হিসেবে মিউজিয়াম বিষয়ে লেখ? CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন